ইলিশের বাজারে বৈশাখী হাওয়া
পহেলা বৈশাখে ঘটা করে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ বাঙালির দীর্ঘ দিনের। তাই প্রতিবছর দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বাগেরহাটে পহেলা বৈশাখের আগের দিনগুলিতে ইলিশের চাহিদা থাকে বেশি। তবে এবার সাগরে উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে জেলারা না যাওয়ায় মাছ ব্যবসায়ীরা বেশ আগে ভাগেই পহেলা বৈশাখ টার্গেট করে ইলিশ মজুদ করে রেখেছে। আর মজুদকৃত এ ইলিশ মাছ বেশি লাভের আশায় এখন বাজারে ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকটা নিরুপায় হয়েই ক্রেতারা চড়া দামেই পহেলা বৈশাখ উপভোগ করতে এ ইলিশ কিনছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য আড়ৎ কেবি বাজারে গিয়ে আড়তদার ও পাইকার বিক্রেতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সরোজমিনে দেখা যায়, সকাল ৬টা থেকে কেবি বাজার মৎস্য আড়তে ইলিশ কেনা-বেচা শুরু হয়। এই আড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা চলে ইলিশ ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক ডাক। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ এ পাইকারি মাছ বিক্রির ঐতিহ্যবাহী বাজার এটি। খুলনা, গোপালগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে খুচরা বিক্রেতা আসেন এখানে মাছ কিনতে। প্রতিদিনই প্রায় কয়েক টন ইলিশ বিক্রি হয়। পাইকারি মাছ বিক্রির পুরাতন বাজার হলেও এবারের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কেবি বাজারে ইলিশ বোঝাই করে সাগর থেকে নতুন করে ভিড়ছে না কোন ট্রলার। তাদের মতে সাগর ও নদী এ সময় উত্তাল থাকার কারণে জেলেরা নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে এ সময়টাকেই তাদের মাছ ধরার উপকরণ জাল ও ট্রলার মেরামতের উপযুক্ত সময় হিসাবে বেছে নেয়। তাই দাম ও চাহিদা থাকা সত্বেও পহেলা বৈশাখে কোল্ড স্টোরে মজুদকৃত ইলিশের উপর ভরসা রাখতে হচ্ছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের।

এদিকে চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যে ইলিশের দাম বাড়িয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীসহ আড়তদাররা। বাগেরহাটের বাজারে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রামের জাটকা ইলিশের কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়। তবে প্রধান মৎস্য কেন্দ্র কেবি বাজারে এক কেজি সাইজের বড় ইলিশের দেখা মেলা ভার। এছাড়া বাগেরহাট সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজারে এখন সব ধরনের ইলিশের কদর বেশি। একারণে এসব বাজারগুলোতে জাটকা ইলিশের দেখা মিলছে বেশি। বছরের এ সময়টা ইলিশের দাম কিছুটা বেশি হলেও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাগেরহাটে পান্তা-ইলিশ ভক্তরা তাই জাটকা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।
এদিন সকালে বাগেরহাট মাছ বাজারের পাইকারি মাছ বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, নতুন করে কোন মাছ না আসায় আমরা কোল্ডস্টোরের মজুদকৃত ইলিশ দিয়ে এবারের পহেলা বৈশাখে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাচ্ছি। দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। এছাড়াও বাজারে সামান্য কিছু তাজা মাছ পাওয়া যাচ্ছে যেগুলোর দাম আকাশ ছোয়া।

ইলিশ ক্রেতা এনজিও কর্মী তারিক আহমেদ বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বছরের এ সময়টা ইলিশের দাম বেড়ে যায়। তাই আগে ভাগেই এসেছি মাছ কিনতে। দাম চড়া হলেও এক কেজি সাইজের বড় ইলিশর দেখা মিলছে না।
উপকুলীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, বছরে এ সময়টায় জেলেরা তাদের জাল ও ট্রলার মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে জেলেরা নদী বা সাগরে মাছ ধরছে না। তাই বাগেরহাট কেবি বাজারে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন কোনো মাছ আসছে না।
বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য বন্দর কেবি বাজারের মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ এসএম আবেদ আলী বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় জেলেদের জালে কম ইলিশ ধরা পড়ছে। এবার সারা বছরই ইলিশের দাম ভালো থাকায় ব্যবসায়ীরা ইলিশের মজুদ কম করেছে। তাই মোকামে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় একটু চড়া থাকাটাই স্বাভাবিক।
আরএ/পিআর