সাংগ্রাই জলোৎসবে মেতেছে পাহাড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উৎসব সাংগ্রাই। পাহাড়ে মারমা সম্প্রদায়ের বৈসাবি উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকে রিলংপোয়ে। যা অন্য ভাষা-ভাষির লোকের কাছে মৈত্রী বর্ষণ, জলকেলি উৎসব বা ওয়াটার ফেস্টিবল বলে পরিচিত। বান্দরবানের শুরু হয়েছে এ উৎসব । এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে চলছে এখন পানির উৎসব বা জলকেলি উৎসব।

রোববার বিকেলে বান্দরবানের স্থানীয় রাজার মাঠে ফিতা কেটে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। উদ্বোধনের পরেই পানির পাত্র থেকেই বিকেলে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে মঙ্গল জল ছিটান। পানিকে পবিত্রতার প্রতীক মেনে মারমা তরুণ-তরুণীরা পানি ছিটিয়ে নিজেদের শুদ্ধ করে নিচ্ছেন ।শুধু তরুণ-তরুণীরাই নয় এ উৎসবে মেতে উঠেন সব বয়সের মানুষ। অনেকেই আবার ছোট ছোট পাত্রে পানি ধারণ করে ছিটাচ্ছেন একে অপরকে।

Bandarban-Pic-323

জলকেলি খেলা শেষে ক্লান্ত তিতিং ম্যা জানান, সাংগ্রাই উৎসবে অনেক মজা করি। পানি ছিটানোর মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে আজ বরণ করে নিলাম ।

পানি খেলায় পুরুষদের দলে অংশ নেওয়া চহ্রা জানান, গত বছরের চেয়ে এবছরে আনন্দটা অনেক বেশি হয়েছে। ভাষায় প্রকাশ করার মত নয় ।

Bandarban-Pic-(4)

পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় চলছে পানি খেলা বা জলকেলি বা জলোৎসব। এদিকে এ খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শক ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় রাজার মাঠে। যোগ দিয়েছেন বিদেশি শিক্ষার্থী ও পর্যটকরা। এছাড়াও উৎসবের আমেজকে আরেকটু বাড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গান আর নৃত্য উৎসবস্থলকে করেছে মুখরিত ।

জলকেলি উৎসব দেখতে আসা সুরভি আক্তার জানান, অনেক মজা করছি। এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য ঢাকা থেকে বান্দরবানে চলে এসেছি। অন্যান্য উৎসবের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন।

Bandarban-Pic-(3)

আরেক পর্যটক রফিকুল ইসলাম জানান, মারমাদের পানি খেলা আগে দেখিনি। অনেক সুন্দর উৎসব। ওদের মতো আমিও পানি ছিটাচ্ছি।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলী হোসেন জানান, সত্যিই এটা অন্য রকম উৎসব। আমি আমার সপরিবার নিয়ে এখানে এসেছি । আর অনুষ্ঠানস্থলে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সৈকত দাশ/আরএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :