কে কার লোক দেখার সময় নাই : শামীম ওসমান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী ও মাসদাইরসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে মাঠে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী দুই এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান। বুধবার দুপুরে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীসহ আশপাশের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন তারা।

এ সময় শামীম ওসমান বলেন, জলাশয় আইন মোতাবেক এগিয়ে গেলে অনেকের বাড়ি-ঘর থাকবে না। বড় বড় বিল্ডিং ভাঙা পড়বে। জলাশয় নিরসনে যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো উপায়ে রাস্তা ও উঠান থেকে পানি সরাতে হবে। আমি এতো কিছু বুঝি না। আমার এলাকার মানুষের কষ্ট হতে দিব না। কে কার লোক আমার দেখার সময় নাই।

তিনি বলেন, বর্ষা শুরুর আগেই রাস্তায় পানি জমে অনেক এলাকায় কৃত্রিম বন্যা হয়ে গেছে। এখন থেকে আমাদের সচেতন ও সচেষ্ট হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই খাল দখল করতে দেয়া হবে না। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। যেখানে খাল দখল সেখানেই উচ্ছেদ। এতে করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসনে আরা বেগম বীনাকে নজর রাখতে বলেন শামীম ওসমান।

তিনি আরও বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করতে চাই। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কে কোন দল করে তা দেখার প্রয়োজন নাই। জলাবদ্ধতা দূর করতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে এবং পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।

সেলিম ওসমান বলেন, সেলিম ওসমান ও হাতেম বুঝি না খাল দখলমুক্ত রাখতে হবে। প্রভাবশালীরা খাল দখল করবে আর আমাদের সাধারণ মানুষ জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাবে তা হতে পারে না। আর যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন খাল দখল করে স্থাপনা করলে সেটা উচ্ছেদ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিআইডব্লিউটির কাছ থেকে লিজ নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে স্থাপনা তৈরি করা হলেও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই লিজ বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে। মানুষকে জলাবদ্ধতার কষ্ট সইতে দেয়া যাবে না। খাল দখল কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কেউ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

jagonews24

এ সময় বিকেএমইএ সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাতেম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসেনে আরা বীনা, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. শরীফুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জে কল্যাণী খালসহ শাখা খালগুলো দখল করে অবৈধভাবে অর্ধ-শতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে খাল সরু হয়ে ময়লা-আবর্জনা জমে সদর উপজেলা ও ফতুল্লার শিল্পাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্প মালিকরা অবৈধভাবে খাল দখল করায় পানি বুড়িগঙ্গায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীসহ কয়েক লাখ শ্রমিককে।

মো. শাহাদাত হোসেন/আরএ/আরএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :