বগুড়ায় শিলাবৃষ্টিতে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত
বগুড়ায় গত কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলেছে, প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ক্ষতির পরিমাণ টাকার অংকে নিরূপণ করা হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় এখনও অনেক জমিতে ধান রয়েছে। শ্রমিক সংকটসহ আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাবের কারণে খেত থেকে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এতে চালের উৎপাদন ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন।
এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন একটা না হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছিল চাষিরা। তবে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ফলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দফায় দফায় বগুড়া জেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, কাহালু, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া উপজেলার জমির বোরো ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে শীষের ধান চিটা হয়ে গেছে এবং মাটিতে ঝরে পড়েছে। এতে ২ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।
এর মধ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১০০ হেক্টর, কাহালুতে ৫০ হেক্টর, দুপচাঁচিয়ায় ৫০ হেক্টর, সারিয়াকান্দিতে ২ হাজার ১০ হেক্টর ও সোনাতলায় ১৫৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর এলাকার কৃষক আব্দুল মানিক জানান, শিলাবৃষ্টিতে তার জমির পাকা ধান অর্ধেকই ঝরে গেছে। এতে তার সর্বনাশ হয়ে গেছে।
একই ধরনের কথা বলেছেন কাহালু উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মতিন সরদার। তিনি বলেন, ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত চিন্তায় আছি।
নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা ধানের হাটের আড়তদার মাহবুব হোসেন বলেন, এই হাটে এখন গড়ে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক ধান আমদানি হচ্ছে। আর এক সপ্তাহ পর থেকে শুরু হবে মৌসুম। ভরা মৌসুমে ৭০ থেকে ১০০ ট্রাক ধান আসবে এই হাটে। এখন মণপ্রতি ধান ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও মৌসুমে দাম কমে যাবে। তখন সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় মণপ্রতি ধান পাওয়া যাবে। ট্রাকের আকার অনুসারে একেক ট্রাকে ১৫ থেকে ২০ টন ধান থাকে বলে জানান তিনি।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রতুল চন্দ্র জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে এবার ধানের উৎপাদন কিছু কম হবে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭০ মেট্রিক টন।
লিমন বাসার/এএম/এমএস