যাত্রী আছে টিকিট নাই

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৭:২৭ পিএম, ১০ মে ২০১৮

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ। যাত্রীরা ট্রেনের টিকিট হাতে পেয়ে মনে করছেন সোনার হরিণ পেলেন।

প্রতিদিন এই স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার। কিন্তু বরাদ্দ আছে ৩৩৬টি টিকিট। ভৈরব থেকে রাজধানী ঢাকায় ট্রেনে যেতে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভিড় করেন এই রেলস্টেশনে।

এদিকে, সিলেট-ঢাকাগামী কালনী ট্রেনটি দুপুর ১২টায় ভৈরব রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতি করে। ট্রেনটির এই স্টেশনে টিকিট বরাদ্দ আছে মাত্র ১০টি। কিন্তু যাত্রী আছে প্রায় এক হাজার।

রেলওয়ে টিকিট বুকিং কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার কালনী ট্রেনে সিটবিহীন টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০। ১০টি আসনের টিকিট ১০ দিন আগেই কাউন্টার থেকে বিক্রি হয়ে গেছে। যারা সিটবিহীন টিকিট পেয়েছেন তারা মনে করছেন সোনার হরিণ বা আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন।

ভৈরব রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের আসন সংখ্যার বিপরীতে প্রতিদিন টিকিট বরাদ্দ ৩৩৬টি হলেও যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। ফলে বাকি যাত্রীরা প্রয়োজনের তাগিদে আসনবিহীন টিকিটে রেলভ্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

যাত্রীরা জানায়, যাত্রী আছে কিন্তু কাউন্টারে টিকিট নাই। প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন যাত্রীদের। আসনের টিকিট না পেলে যাত্রীদের মুখ মলিন হয়ে যায়। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বিশেষ করে রোগী, নারী-শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়কপথে ভৈরব থেকে বাসে ঢাকায় আসতে যানজটের কারণে সময় নষ্ট হয়। আর ট্রেনে রাজধানীতে পৌঁছতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

ফলে যাত্রীরা রেলভ্রমণে আগ্রহী বেশি। লোকাল ট্রেনগুলোতে সিট নম্বর না থাকায় ও ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রী লোকাল ট্রেনে ভ্রমণ করতে আগ্রহী নয়।

এছাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন টিকিট বিক্রি অনলাইনে করার ফলে অনেক সময় ভৈরবের টিকিট অন্য স্টেশন থেকে বিক্রি হয়ে যায় বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

আবার অনেক যাত্রী ভৈরবের টিকিট না পেলে অনলাইন সিস্টেমে অন্য স্টেশনের টিকিটও বেশি দামে কেটে নেয়। তবে যাত্রার দিনে নয়, আগাম টিকিট কেউ কাটলে অন্য স্টেশনের টিকিট কখনও পেয়ে যায়।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার অমৃত লাল দাস জানান, টিকিটের চেয়ে যাত্রী বেশি। টিকিট বৃদ্ধির জন্য আমরা বার বার কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। দেশে রেল ব্যবস্থায় ট্রেনের সংখ্যা ও বগির সংখ্যা কম বলেই হয়তো টিকিট বৃদ্ধি করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, ভৈরবে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার আসনবিহীন টিকিট বিক্রি হচ্ছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ আমিও বুঝি। কিন্তু আমার কিছুই করার নেই।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।