ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে ঈদযাত্রা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮

সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড় ধসে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার থেকে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটে। এ দিকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, পাহাড় ধসের আতঙ্ক রয়েই গেছে। ফলে খাগড়াছড়ির কিছু কিছু সড়কে ধসে পড়া মাটি সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হলেও অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঘরমুখো লোকজনকে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ঝুঁকিপুর্ণ সড়কেই ঈদযাত্রা করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের আলুটিলার একাধিক অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে শিলাছড়ি এলাকায় ৮০-১০০ ফুট উঁচু পাথুরে পাহাড় থেকে একটি বড় অংশ টানা বর্ষণে ধসে সড়কের ওপর পড়েছে। একই পাহাড়ে ৩০ ফুট দূরত্বে সৃষ্ট ফাটলের পাহাড়ের আরও একটি অংশে ধস নেমেছে। পাহাড়টির দুই পাশে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় মাঝখানের অংশটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে রামগড়ের নাকাপা এলাকাতেও।

এতে পুরো পাহাড় মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পাহাড় ধসের পাশাপাশি সড়কে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। খাগড়াছড়ির সড়কগুলোতে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড় ধসের ছাপ লেগে আছে। খানা-খন্দে ভরা খাগড়াছড়ির পাহাড়ী সড়কগুলো। দ্বিতীয় দফায় ভারি বর্ষণ হলে স্থায়ীভাবে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Khagrachari-Road-3

ইতোপূর্বে সড়ক উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অনেকেই। তাদের মতে পরিকল্পিত সড়ক উন্নয়ন হলে এমন পরিস্থিতির মখোমুখি হতে হতো না।

সড়কে চলাচলকারী জানান, সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। যেকোনো সময় পাহাড়ে আরও বড় ধরনের ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাস চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও ভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ফলে যান চলাচল অনকেটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবুও ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের কথা চিন্তা করে অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমরা এ সড়কে যানবাহন চালাচ্ছি।

Khagrachari-Road-3

কলেজ শিক্ষক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, সড়কের যে হাল তাতে যাত্রা করাটা ঝুকিপূর্ণ। তবুও পরিবার-পরিজনের ঈদ আনন্দের কথা চিন্তা করেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে ঈদযাত্রা করতে হচ্ছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী আলুটিলা ছাড়াও সাপমারা, নাকাপা, মহালছড়িতে পাহাড় ধস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শুধুমাত্র পাহাড় কাটার কারণেই ধসের সৃষ্টি হয়নি। অনেক সময়ই ভারি বর্ষণের ফলেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে থাকে বলেও জানান তিনি।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/আরএ/পিআর