যশোরে ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায়, আটক ৮

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ২৫ জুন ২০১৮

যশোরে সাড়ে ৪ হাজার ইজিবাইক ঘিরে চলছে নিয়মিত চাঁদাবাজি। কোথাও স্লিপ দিয়ে কোথাও স্লিপ ছাড়াই শহরের অন্তত ১৪টি পয়েন্টে এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আর ধার্যকৃত এই চাঁদা না দিয়ে ইজিবাইক চালানো দুঃসাধ্য বলে জানান চালকরা।

চালকদের দেয়া তথ্য মতে, এ খাতে প্রতিমাসে চাঁদাবাজদের আয় প্রায় ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের পর সোমবার শহরে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। প্রথমদিনে চাঁদা আদায়কালে তিনটি পয়েন্ট থেকে আটজনকে আটক করা হয়েছে। এদিন বিকেলে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, শহরে চাঁদাবাজি ঠেকাতে তারা জোরালো তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। বেআইনি চাঁদা আদায় ঠেকাতে তাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।

গত দুইদিন আগে যশোর শহরের মনিহার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনেই ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত নসিমন থেকে চাঁদা তুলছেন কয়েকজন। স্লিপ ছাড়া আবার কখনও বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে ১৫ টাকা করে তোলা হয় এই চাঁদা। এমন দৃশ্য শহরের প্রায় ১৪টি পয়েন্টে।

চালকরা বলছেন, বাধ্য হয়েই দিতে হয় এই চাঁদা। যশোরে প্রতিদিন ইজিবাইক চলে অন্তত সাড়ে চার হাজার। এ হিসেবে গাড়ি প্রতি ১৫ টাকা চাঁদা আদায়ের পরিমাণ ৬৮ হাজার ৫শ’ টাকা। যা মাস শেষে দাঁড়ায় ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর বছরে ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

চালকরা জানান, তারা পৌরসভায় কয়েক হাজার টাকা দিয়ে ইজিবাইক চালানোর লাইসেন্স নিয়েছেন। কিন্তু তারপরও অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে প্রতিদিন তাদের চাঁদা দিতে হয়। অথচ এসব সংগঠনের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। মূলত এই চাঁদার টাকা বিভিন্ন মহল্লার মাস্তানরা ভাগাভাগি করে নেয়। পুলিশের নামেও রাখা হয় একটি অংশ।

ইজিবাইক চালক হাফিজুর রহমান জানান, চাঁদার পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। প্রথমে ৫ টাকা চাঁদা নিলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়। এতে আমরা অসহায় হয়ে পড়ছি। চাঁদার টাকা না দিলে গাড়িতে আঘাত করে, ভেঙে দেয়। সুযোগ পেলে চাবিও কেড়ে নেয়। ফলে বাধ্য হয়ে তারা চাঁদা পরিশোধ করেই রাস্তায় নামেন।

তবে বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি যশোর জেলা শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমন দাবি করেন, শহরের যানজট নিরসন ও ইজিবাইক চালকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য এই টাকা নেয়া হয়।

কিন্তু এ পর্যন্ত শ্রমিক-চালকদের কী কল্যাণ করেছেন- এমন প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি তারা। তারা অভিযোগ করেন, তাদের সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয়রা চাঁদা তুলছেন।

এদিকে মনিহার এলাকায় এক চাঁদা আদায়কারীর দাবি, ইজিবাইক প্রতি ১৫ টাকা চাঁদা তুলে অফিসে ১০ টাকা দিতে হয়। বাকি ৫ টাকা তার থাকে। এর ভাগ পুলিশসহ অনেকেই পায়। তাই পুলিশের সামনে চাঁদা আদায় করলেও কিছু বলেন না।

তবে যশোর ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই সমর কুমার বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কেউ টাকা নিচ্ছে না।

মিলন রহমান/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।