মা-বাবাকে না জানিয়ে বিয়ে, অতঃপর...
নীলফামারীতে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে অপরিচিত এক প্রেমিককে বিয়ের পর অস্বীকায় করায় আত্মহত্যা করেছে এক মাদরাসাছাত্রী।
শনিবার তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়। বিয়ে অস্বীকার করায় শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে লুসি (১৬) নামের ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে। লুসি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতরা ইউনিয়নের মধ্য কাকড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে ও কাকড়া শুকানদিঘী দাখিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
লুসির বাবা আতিয়ার রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে লুসি গোপনে পঞ্চগড়ের জিয়াউল ইসলাম নামের একজনকে বিয়ে করে। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পারি। জিয়াউলের ঠিকানা ও পরিবার সম্পর্কে এর বেশি কিছু আমরা জানি না।
তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বাসায় কথা হয়। আমি লুসিকে ডেকে বিষয়টি জানতে চাই। তখন আমার কথার উত্তর না দিয়ে জিয়াউলকে ফোন দিয়ে দীর্ঘসময় ঝগড়া করে লুসি। পরবর্তীতে বাসার লোকজনের অনুপস্থিতিতে শোবার ঘরে বিকেল ৫টায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে লুসি। মোবাইলে প্রেমের সূত্রে জিয়াউলকে গোপনে বিয়ে করলেও বিষয়টি আমরা পরে জানতে পারি। জিয়াউল বিয়ে অস্বীকার করায় অাত্মহত্যা করেছে লুসি। এ ঘটনায় মামলা করেছি আমরা।
লুসির মা ফুলবানু বলেন, জিয়াউল বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করায় লুসি আত্মহত্যা করেছে। কারণ আত্মহত্যার আগে বিয়ে নিয়ে জিয়াউলের সঙ্গে দীর্ঘসময় ঝগড়া করেছিল লুসি।
নাউতারা ইউপির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন বলেন, ওই ছাত্রী মোবাইলে প্রেমের সূত্রে গোপনে বিয়ে করে। পরে অস্বীকার করায় আত্মাহত্যা করেছে বলে শুনেছি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সবুজ আলী বলেন, ওই ছাত্রী মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ ঝগড়া করে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের লোকজন দাবি করেছেন। মোবাইল কলের রেকর্ড ও জিয়াউরের ঠিকানা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
জাহেদুল ইসলাম/এএম/আরআইপি