‘এনায়েতপুর একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ০১ জুলাই ২০১৮

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত তিন মাসের ব্যবধানে নদীর পশ্চিম তীরবর্তী শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানার প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকার ছয়টি গ্রামের সহস্রাধিক বসত-ভিটাসহ কয়েক শতাধিক হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এনায়েতপুর থানা একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। আর পাউবো বলছে, একমাস আগে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে নোটিশ শিট পাঠালেও এখনও অনুমোদন দেয়া হয়নি।

গতকাল শনিবার সকালের দিকে ব্রাহ্মণগ্রাম ও আড়কান্দি গ্রামে চলে ভয়াবহ ভাঙন। একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসত বাড়ি ও ফসলি জমি। ঘর-বাড়ি হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়ছে মানুষ। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকেই।

jagonews24

ব্রাহ্মণগ্রামের বাসিন্দা তপা ফকির জানান, মাত্র দু'বছর আগে সাড়ে তিন বিঘা জমি, ওয়ালসেট বাড়ি নদীগর্ভে হয়ে গেছে। এক কিলোমিটার পেছনে এসে নতুন করে আবার বাড়ি নির্মাণ করেছিলাম। সেটিও বিলীন হয়ে গেলো। এখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। রোহিঙ্গারা যতটুকু সহায়তা পাচ্ছে তার একচুল পরিমাণ সহযোগিতাও আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে পাচ্ছি না। কারণ গত বছর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তাদের আশ্বাস থেকেই গেলো, আর আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেলো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহবার আলী জানান, নদী ভাঙনের ভয়াবহতা এতো বেশি যে প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়ি অথবা স্থাপনা নদীতে চলে যাচ্ছে। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

jagonews24

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, তিন বছর আগ থেকেই ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বছর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বহু বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়। যে কারণে গত বছর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণ এলাকা পরিদর্শন করে তীর রক্ষা বাঁধের আশ্বাস দেন। এরপরই কারিগরী কমিটি স্থান পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কিন্তু সেটি অনুমোদন হয়নি।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।