১৩ বছর পর ফিরে এলো মৃত ভাই, জড়িয়ে ধরে কান্না
মানসিক প্রতিবন্ধী শাজাহান। বয়স ৩০। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। ১৩ বছর আগে তিনি বাড়ি থেকে হারিয়ে যান।
এক সময় নিজের অজান্তে ভারত সীমান্তে ঢুকে পড়েন। তখন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকে জঙ্গি ভেবে আটক করে থানায় পাঠায়। সেখান থেকে আদালত। আদালত তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে জেলহাজতে পাঠান। সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে ১৩টি বছর কাটাতে হয় জেলহাজতে। সেই থেকে নিখোঁজ ছিলেন শাজাহান। বাড়ির সবাই জানেন শাজাহান মারা গেছেন।
হঠাৎ করে পুলিশের ফোন পেয়ে অবাক শাজাহানের পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ জানায়, শাজাহান বেঁচে আছেন। তাকে বুঝে নিতে পরিবারের সদস্যদের ডাকে পুলিশ। খবর শুনে বেনাপোলে ছুটে যায় শাজাহানের পরিবারের সদস্যরা।
অবশেষে বৃহস্পতিবার বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ শাজাহানকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন। এ সময় থানায় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। ভাইকে থানায় দেখে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন বড় ভাই লাল মিয়া। এ সময় কেঁদে ফেলেন শাজাহান।
পুলিশ জানায়, ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে গত ১৩ জুলাই সকালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আইনে ভারত থেকে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে ভারতীয় পুলিশ। কিন্তু তার ঠিকানা সঠিক না থাকায় এতদিন বাড়িতে পৌঁছানোর সুযোগ হয়নি। তিনি অগোছালোভাবে দু’একটা কথা বলতে পারেন। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। কাগজপত্রেও তার ঠিকানা সঠিক ছিল না। অবশেষে তার চুল, দাঁড়ি কাটিয়ে বিভিন্ন থানাতে ছবি পাঠানো হয়। পরে অনেক চেষ্টার পর তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজ উদ্দিন বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন শাহাজান ভারত থেকে আসার পর অনেক চেষ্টা করে তার ঠিকানা সংগ্রহ করে রংপুরে খবর দেয়া হয়। মিঠাপুকুর থেকে তার বড় ভাই লাল মিয়াসহ আত্মীয়-স্বজন থানায় এলে তাদের কাছেই শাজাহানকে হস্তান্তর করা হয়। ১৩ বছর পর ভাইকে ফিরে পেয়ে যেমন খুশি ভাই তেমনি আমরাও খুশি।
মো. জামাল হোসেন/এএম/জেআইএম