শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের দাফন সম্পন্ন
শেরপুরের শ্রীবরদীতে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে মাওলানা রেজাউল করিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামে। পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন ও জানাজা উপলক্ষে শ্রীবরদীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। চার প্লাটুন বিজিবি ও সেনাসদস্যদের এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ব্যক্তিজীবনে তার এক কন্যা ও এক ছেলে, স্ত্রী রয়েছে।
জানাজার নামাজে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী বলেন, সরকারিভাবে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানে নিয়ে নিরাপত্তা দিতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা। সেখানে গিয়ে আমাদের ভাই মাওলানা রেজাউল করিম সন্ত্রাসীদের হামলায় শাহাদাত হয়েছেন। যারা মাওলানা রেজাউল করিমের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করেছে তাদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা হামলা করে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
এসময় জাতীয় নাগরিক কমিটি এনসিপির জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলার স্টেডিয়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ হয়। এসময় আহত হন উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মাওলানা রেজাউল করিম।
নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। এ ঘটনার পর তার পরিবারের সব দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম ও ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের একটি এক্সপার্ট টিম কাজ করছে।’
মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম