এক সঙ্গে পাঁচটা কবর খুঁড়লো গ্রামবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৮

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুরে উড়ছে কালো পতাকা। খাল পাড়ের রিকশাচালক জসিমের বাড়িমুখি মানুষের দীর্ঘ লাইন। এ বাড়িতে এর আগে এতো মানুষের উপস্থিতি দেখেনি কেউই। দলে দলে মানুষ আসছে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ এমনি শিশু। সবার চোখে-মুখে শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর শোক।

শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা। খালপাড়ের খোলা জমিতে একে একে রাখা হলো পাঁচটি লাশ। জানাজা শেষে একটু পরেই রাখা হবে কবরে। জসিমের অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে (জসিমকে) পাওয়া গেল না। পাশের একটি জমিতে আধামরা হয়ে শুয়ে আছে সে। তাকে ঘিরে কয়েকটা মানুষ জড়ো হয়েছে। কেউ কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছে। কিন্তু জসিমও যেন লাশ হয়ে পড়েছে।

Fini

কেউ কেউ বলছেন এ গ্রামে আর কেউ এক সঙ্গে পাঁচটা কবর দেখেনি। যারা কবর খুঁড়ছেন তারাও কি কখনও একসঙ্গে এতো কবর খুঁড়েছেন? দূর থেকে নারী কণ্ঠের বিলাপ (কান্না) শোনা যাচ্ছে। পুরুষদের চোখেও কান্নার ছাপ।

একটা সময় কান্না শেষ হতে থাকে। পাঁচ-পাঁচটা তাজা কবরে পানি ছিটিয়ে মৌলভীর (মাওলানার) সঙ্গে মোনাজাত ধরে জসিম। সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ। দোয়া হয় তাদের জান্নাতবাসী হওয়ার জন্য।

Fini

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাঙ্গারতাকিয়া নামকস্থানে শ্যামলী পরিবহনের ধাক্কায় প্রাণ হারায় চালকসহ একই পরিবারের ৫ জন। নিহতরা নবাবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুরে গ্রামের জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নাসিমা (৪৫), শাহাদাত (২৬), নাসির (২৫), সালমা (১৮) ও দেলোয়ার হোসেন (১৭)। অপরদিকে আরেক নিহত সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালক রুহুল আমিন ফেনী পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।