শিক্ষককে পেটালেন প্রধান শিক্ষিকার ছেলে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার ছেলের হাতে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মারধরের শিকার হয়েছেন।

শিক্ষিকার ছেলের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সেই শিক্ষক। শিক্ষিকার ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দেয়ার পর হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে ওই শিক্ষককে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সেই শিক্ষক।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের ৪ নং ঈশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গত ৩০ আগস্ট ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে স্থানীয়রা।

এ নিয়ে মাহফিলের আয়োজক কমিটির সদস্য এবং ঈশ্বরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালেহা বেগমের ছেলে দিদারুল ইসলাম দিপু শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। স্কুলের শিক্ষকেরা ১০০ করে টাকা দিলে সে টাকা না নিয়ে বেশি টাকা দাবি করে দিপু। কয়েকজন শিক্ষক দাবিকৃত টাকা না দিলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এস এম ফারুক হোসেন ৩০০ টাকা দিলে দিপু টাকা ছুড়ে ফেলে দেয় এবং তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে।

স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, দিপু লাঠি দিয়ে যেভাবে আঘাত করেছে আমরা যদি না ঠেকাতাম তাহলে শিক্ষক ফারুক হোসেন মরেই যেতেন। এমনিতেই শিক্ষক ফারুক হোসেন ওপেনহার্ট সার্জারি করে এসেছেন। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়।

এদিকে, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ফারুক হোসেন বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষিকার ছেলে দিপু আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সে বিভিন্নভাবে ফারুক হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে এলাকায় আসলে মেরে ফেলা হবে।

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এস এম ফারুক হোসেন বলেন, ১০০ টাকা চাঁদা ধার্য করা হলেও আমি ৩০০ টাকা দেই। আমি ১ হাজার টাকার নোট দিলে দিপু পুরোটাই রেখে দেয়। বাকি টাকা ফেরত চাইলে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট করে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নগরকান্দা থেকে এখন আমি ফরিদপুরের আত্মীয়ের বাসায় রয়েছি।

নগরকান্দা উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মানোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রশাসন না নিলে আমরা শিক্ষক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।

অভিযুক্ত দিপুর মা ঈশ্বরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালেহা বেগম বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে শিক্ষক ফারুক হোসেনের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিবুপদ দে বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। চাঁদা না দেয়ায় একজন শিক্ষককে স্কুলের ভেতরে যেভাবে মারপিট করা হয়েছে তার বিচার হওয়া উচিত। ঘটনাটি আমি শুনেছি। প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।