অটোরিকশা থেকে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজি!
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় কুতুবপুর ইউনিয়নে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় অটোরিকশা বন্ধের হুমকি দেয়ায় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশের ১১ সহযোগীর নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত এ অভিযোগ দেন অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশ শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক।
লিখিত অভিযোগ দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন- মাহবুবুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, আক্তার হোসেন ঝন্টু, মো. জুয়েল, আলী আকবর, মো. বাবুল, ইলিয়াস উদ্দিন কাজী, আব্দুল কুদ্দুস, শোয়েব, আবুল হাশেম, আব্দুস সামাদ ও আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, শহরের এসব অটোরিকশা থেকে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের সহযোগী শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু, আজিজুল হক, মজিবুর রহমান, সালু পাটোয়ারী, কাওসার, মোশারফ, ইমরান, শরীফ, সাইদুল, সোহাগ, ফারুকসহ অজ্ঞাত কয়েকজন অটোরিকশা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়। এর আগে চাঁদা নিয়ে একাধিকবার অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে তারা।
জানা গেছে, শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্সের জেলা কমিটির সভাপতি। ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি হলেন কাউসার আহাম্মেদ পলাশ। পলাশ অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক।
গতকাল রোববার দুপুরে ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় সিসিলি কমিউনিটি সেন্টারে অটোরিকশা মালিক শ্রমিকের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। সেখানে আরও বলা হয়, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে কিংবা চাঁদা দিতে দেরি হলে শ্রমিকদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন।
এ বিষয়ে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশ বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয়। যদি কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হোক। অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ একটি স্বাধীন সংগঠন। এখানে কোনো চাঁদাবাজি হয় না।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এমএস