ভাসমান বীজতলায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:২১ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দিক নির্দেশনায় বন্যা কবলিত এলাকায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করে সুফল পাচ্ছেন কৃষক। স্বল্প খরচে অল্পদিনে ধানের চারা ও সবজি চাষ করতে পেরে অনেকেই ঝুঁকছেন ভাসমান পদ্ধতিতে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৌশলে এই ভাসমান বেডে বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কৃষকরা। নতুন এই পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উপজেলার যে এলাকায় প্রতি বছর বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সেসব এলাকার কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। এতদিন যেসব কৃষক বর্ষার সময় তাদের জমিগুলো সময় মত চারা তৈরি করতে না পেরে সময় মতো জমি চাষ করতে পারতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাদের বুকে আশার সঞ্চার করেছে।

কৃষক সোহরাব আলী, ফরহাদ হোসেনসহ এলাকার অনেক কৃষক এ বছর নতুন এই পদ্ধতিতে যেসব ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন সেগুলোতে বেশ ভালো চারা উৎপাদন হয়েছে। নিজেরাই এই বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটানোর পর অন্য এলাকাতে সরবরাহ করেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে উপজেলায় যে চারা সংকট দেখা দেয় সে সংকট আর হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষকেরা।

jagonews

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শাহানগাছা গ্রামের কৃষক আমজান আলী জানান, আমাদের এলাকায় প্রতি বছরই বন্যা হয়। যেকারণে তারা সময়মত বীজতলা তৈরি করতে পারে না ফলে সময়মত বীজতলা তৈরি করতে না পারায় ঠিকমত আবাদ করতে পারে না। এতে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হন। নতুন এই পদ্ধতি আসায় এখন আর তাদের চারা উৎপাদনে সমস্যা হবে না ফলে তাদের আর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ১০টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এতে নাবি জাতের বিআর-২২ ধানের বীজ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বীজতলা তৈরি করতে কাঁচা কচুরীপানা বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ও কলাগাছ দিয়ে বেড তৈরি করতে হয়। এই সব বেডে অংকুরিত বীজ বুনতে হয়। ২০-২৫ দিনের মধ্যে চারা উৎপাদিত হয় এবং রোপণের উপযোগী হয়। এতে খরচ নেই বললেই চলে। পানি থাকাকালীন অবস্থায় এই বেড পানিতে ভাসিয়ে রাখা যায়। আবার পানি শুকিয়ে গেলে জমিতে ও রাখা যায়।

jagonews

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আরশেদ আলী জানান, এটি একটি আপৎকালীন প্রযুক্তি। কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য এবছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা লাভবান হবে। বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে কৃষকরা রক্ষা পাবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :