সৌদি আরবের খেজুরের চারা দিয়ে বাগান করলেন লাবলু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আজওয়া খেজুর চারা উৎপাদন করতে তেমন খরচ হয়নি। তবে ঠিক মতো প্রক্রিয়া জানা থাকলে যে কেউ তৈরি করতে পাবেন। বালি, মাটি আর জৈব সার দিয়ে এই চারা উৎপাদন করা যায়। একটি খেজুর গাছ থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরে ফল পাওয়া সম্ভব। এমনটাই জানালেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর ছোট ভাই মোস্তাক আহমেদ লাবলু। মোস্তাক আহমেদ লাবলু ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন।

মোস্তাক আহমেদ লাবলু জানান, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কৃষি অনুষ্ঠান দেখে এবং ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে আজওয়া খেজুর উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেন। তাই বিভিন্ন কৃষি ফার্মে আজওয়া খেজুরের চারা খোঁজ করেন কিন্তু পাননি। তবে হাল ছাড়েননি ২০১৭ সালের দিকে সৌদি আরবে বসবাসরত তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ২৫টি আজওয়া খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। প্রথম পর্যায়ে সেই বীজ থেকে ১৯টি চারা উৎপাদিত হলেও সেখান থেকে ১২টি চারা বাঁচে। এরপর চলতি বছরের প্রথম দিকে সৌদি আরব থেকে বেশকিছু বীজ সংগ্রহ করেন। এতে প্রায় ১০০টি চারা উৎপাদন হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ১৩০টি চারা উৎপাদন করেন। উপজেলার চাচড়া মাঠে মোস্তাক অ্যান্ড মোস্তাফিজ আজওয়া খেজুর বাগান প্রজেক্ট নামে একটি বাগান তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন।

তিনি জানান, নিজে বাগান তৈরির পর চারা উৎপাদন করে কৃষক পর্যায়ে এই আজওয়া খেজুর ছড়িয়ে দিবেন।

মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রথমে বীজগুলো টিস্যুর মধ্যে রেখে তারপর মাটির মধ্যে অত্যন্ত যত্নে রেখে বড় করেছেন। বর্তমানে চারাগুলোর বয়স ৩ মাস। আগের উৎপাদিত প্রায় ১২টি চারা তিনি রোপন করেছেন। বাকি ১২০টি চারা দিয়ে তিনি আজওয়া খেজুরের বাগান করবেন।

Jhenaiah-Awja-Khajur2.jpg

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর রোজার মাসসহ বিভিন্নসময় সৌদি আরবের খেজুর কিনে খান। সবচেয়ে ভালো খেজুর ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে কিনেন তারা। আর প্রতি কেজি আজওয়া খেজুর বিক্রি হয় ৩ হাজার টাকা। এছাড়াও খেজুরের পুষ্টি গুণের কথা বিবেচনা করে চারা উৎপাদন করে বাগান করেছেন লাবলু।

‘এ আজওয়া খেজুর সম্পর্কে বেশ কিছু হাদিস আছে। সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৫৬ জুমুআ ইবন আব্দুল্লাহ (রা:) সাদ (রা:) তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলল্লাহ (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ ও যাদু ক্ষতি করবে না।’

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ন কবির জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদি আরবের খেজুর চাষ হচ্ছে। অনেক স্থানে কৃষকরা ফলও পেয়েছে। কালীগঞ্জে যে যুবক আজওয়া খেজুরের চারা উৎপাদন করেছে তাকে সাধুবাদ জানাই। তিনি যদি কৃষি অফিসের সহযোগিতা কামনা করেন তা তাকে করা হবে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।