তবুও শরীয়তপুরে বন্ধ হচ্ছে না ড্রেজার
শরীয়তপুরে অবাধে চলছে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার নদ নদী ও ফসলি জমি। ভাঙনের মুখে পড়ছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।
গত দশ মাসে ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ৬০টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। তারমধ্যে বেশ কয়েকটি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে ড্রেজার মালিকদের। সেই টাকা জমা হয়েছে সরকারি কোষাগারে।
এসব অভিযানের ফলে ভেদরগঞ্জে ড্রেজার বসানো বন্ধ হলেও উল্টো চিত্র সদরসহ অন্যান্য উপজেলায়। এমনকি পদ্মার ভাঙনে যেখানে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে সেই নড়িয়াতেও থেমে নেই এসব অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার। এতে নদী ভাঙনসহ ভূমিধসের হুমকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বিনোদপুর ইউনিয়নের কৃত্তিনাশা নদী থেকে প্রায় এক বছর যাবৎ অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. পান্নু সরদার। যা বিনোদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে।

এছাড়া বিনোদপুর ঢালীকান্দি গ্রামে ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করছেন বোরহান মোল্লা, চিকন্দী ইউনিয়নের দক্ষিণ শৌলা গ্রামে দুইটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন কালাম হোসেন ও বেড়া চিকন্দী কৃত্তিনাশা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন ওয়াহিদ খাঁ। এছাড়া আংগারিয়া ইউনিয়নের চর মধ্যপাড়া গ্রামে ফসলি জমি কেটে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন মিরাজ বেপারী।
একইভাবে জাজিরা, নড়িয়া, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে এতে সহযোগিতা করছেন খোদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।
চর মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক অরুন চন্দ্র মন্ডলসহ অনেকেই জানান, তাদের জমির পাশেই বড় বড় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে তাদের ফসলি জমি ধসে পড়ছে। প্রতিবাদ করলেও শুনছেন না ড্রেজার ব্যবসায়ীরা।

ড্রেজার মেশিনের মালিক বোরহান মোল্লা বলেন, আগে ড্রেজার দিয়ে নদীতে বালু উত্তোলন করতাম। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০ দিন জেল খেটেছি। তাই এখন আর নদীতে ড্রেজার বসাই না। ফসলি জমিতে বসাই।
শরীয়তপুর নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, যারা অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী, খাল ও ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করছেন তারা দেশের শত্রু। বালু উত্তোলনের ফলে সড়ক, ব্রিজ ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, যদি জেলার কোথাও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে ড্রেজার জব্দ করে মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম