প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাউন্সিলরের জায়গা দখল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসনের পেরিফেরি করা একটি বাজারের জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠেছে পৌরসভার এক কাউন্সিলরে বিরুদ্ধে। পৌরশহরের গোকর্ণঘাট বাজারের সরকারি জায়গা নিজের দখলে নিয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ফেরদৌস মিয়া। তার এই দখল কর্মযজ্ঞের সঙ্গী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও এলাকার প্রভাবশালীও রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসন বাজারটি পেরিফেরি করে বন্দোবস্ত দেয়ার উদ্যোগ নেয়ার পর দলবল নিয়ে ওই জায়গা দখলে নেন কাউন্সিলর ফেরদৌস। মাছ বাজার করার কথা বলে জায়গাটি দখল করে নেয়া হয়। দখল করা জায়গাটিতে কাঁচা বাজার বানাতে কয়েক মাস আগে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের বাধায় সেই কাজ এখন বন্ধ রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে গোকর্ণঘাট বাজারটি পেরিফেরি করা হয়। এর আওতায় বাজারের দক্ষিণ দিকে নতুন সংযুক্ত ১২ শতক জায়গায় তিনটি সারিতে মোট ৪৪টি দোকান ঘর করে বন্দোবস্ত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ওই বছরের ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসক এই পেরিফেরি অনুমোদন করেন। মূলত পেরিফেরি করে খালি জায়গাটি বন্দোবস্ত দেয়ার খবর পেয়েই জায়গাটি দখল করে নেয় কাউন্সিলর ফেরদৌস ও স্থানীয় মাতব্বররা।

পেরিফেরি নকশা অনুযায়ী ওই ৩টি সারির মধ্যে চলাচলের জন্য গলি বা পথ হিসেবে রাখা হয় ৪ শতক জায়গা। এছাড়া বাজারের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণে নতুন সংযুক্ত অংশের শেষ সীমানা পর্যন্ত একই সমতায় তোহা বাজারের জন্য বাজারের মাঝখান দিয়ে ১৯৭০ ও ১৯৯৮ দাগে মোট ৩১ শতক জায়গা বরাদ্দ রাখা হয়। যেটি বাজারের ভেতরে চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এর বিভিন্ন অংশে মাছ বাজারসহ কাঁচা বাজার ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বসছেন।

সরেজমিন ওই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি ওই জায়গার ওপর পাকা ভিট ও কলাম ওঠানো হয়েছে। যাতে প্রশাসনের পেরিফেরি নকশা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। তোহা বাজারের জন্যে বরাদ্দ রাখা জায়গার ওপরই পাকা ভিট করা হয়েছে। এতে বাজারের পুরাতন অংশ থেকে নতুন অংশের ওপর দিয়ে তিতাস নদীর ঘাট পর্যন্ত চলাচল ও মালামাল পরিবহনের জন্য তোহা বাজার হিসেবে রাখা সোজা পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। দখলকারীরা এর পূর্বদিকে প্রশাসনের দোকান ঘর করার সারিতে তাদের সুবিধো মতো একটি রাস্তা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট তারা এখানে কাঁচাবাজার করার জন্যে দরপত্র আহ্বান করে। মোট ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মারিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে। তবে ৩ বছর আগে আহ্বান করা দরপত্র দিয়ে কিভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করছে সেটি নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

ইতোমধ্যে অবৈধভাবে ভোগ-দখলকারীদের একটি তালিকা করেছে প্রশাসন। সেই তালিকায় গোকর্ণঘাট এলাকার মো. এরশাদ, ফেরদৌস মিয়া (পৌর কাউন্সিলর), মো. ফরিদ মিয়া, মো. লাহু সর্দার, মনির মিয়া, হক সাহেব, জাকির মিয়া, মো. এয়াকুব আলী, মো. ওমেদ আলী ও মো. জিয়াউর রহমানসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। মূলত দখলের নেতৃত্বে রয়েছেন কাউন্সিলর ফেরদৌস।

তবে কাউন্সিলর ফেরদৌস মিয়া তার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছয় মাস আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের নেতৃত্বে ডিসি, এডিসি রেভিনিউ শামসুল হক, ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস এসে ওই জায়গার মধ্যে সেডটি করার জন্যে জায়গা দেখিয়ে দেন। এখানে জবর দখল কেউ করেনি। জায়গাটিতে মার্কেট করার জন্যে সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিনের সময় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। বর্তমান মেয়র নায়ার কবির আসার পর মার্কেটের কাজ শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানা বলেন, আমরা পেরিফেরি করার পর তারা জায়গাটি দখল করেছে। আমরা তাদেরকে মৌখিকভাবে বারবার স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার কথা বলছি।

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।