গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করল স্বামী-দেবর
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নাসরিন আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত নাসরিন আক্তার নরসিংদীর পলাশ থানার ঘোড়াশাল গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম মেয়ে এবং আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী গ্রামের মঞ্জুর হোসেনের স্ত্রী।
নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রায় ২ বছর আগে তিনি আড়াইহাজার উপজেলার লস্করদী গ্রামের খেজমত আলীর ছেলে মঞ্জুর হোসেনের সঙ্গে মেয়ে নাসরিন আক্তারের বিয়ে দেন। নাসরিন দেখতে অনেক সুন্দরী ছিল। তাই বিয়ের পর থেকেই দেবর দেলোয়ার হোসেন তার পিছু নেয়। দেলোয়ার বিভিন্ন সময়ে তাকে উক্ত্যক্ত করতো। নাসরিন এর প্রতিবাদ করলে তার দেবর তাকে মারপিট করতো এবং স্বামী মঞ্জুরকে দিয়েও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নির্যাতন করাতো।
শফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতে নাসরিনের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয় নাসরিন মারা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি মেয়ের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে এবং তার নাক, মুখ, হাত-পাসহ দেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এরই মধ্যে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। পরে থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে ইউডি মামলা নিয়েছে।
আড়াইহাজার থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বলেন, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় হত্যার কোনো আলামত পাইনি। তাই আপাতত একটি ইউডি মামলা নিয়েছি। ময়নাতদন্তের আগে এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/এমএস