জ্ঞান ফেরেনি রোগীর, লাখ টাকা দিলেন চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৮

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরে অনুমোদনহীন একটি ক্লিনিকে অপারেশন করতে গিয়ে সুলতানা বেগম (২৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাদের হস্তক্ষেপে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস মীমাংসা করা হয়। গতকাল বুধবার রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরে মোকামতলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কাশিপুর গ্রামের মোখলেছার রহমান তার ছোট ভাই এমদাদুল হকের স্ত্রী শারমিন বেগমকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করানোর জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সন্ধ্যার পর অপারেশন শেষে রোগীকে বেডে পাঠানোর পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

ক্লিনিকের দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি জানান, দায়িত্বরত চিকিৎসক অপারেশন সফল করতে পারেননি। অপারেশন শেষে রোগীর জ্ঞান ফেরানোর ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দেয়। জ্ঞান না ফেরায় অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কাউকে না জানিয়ে রোগীকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে শারমিন বেগম মারা যান।

বৃহস্পতিবার সকালে শারমিন বেগমের মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকে গেলে সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যায়।

পরে লোকজন ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে ক্লিনিক মালিকের পক্ষ নিয়ে মধ্যস্থতা করে শারমিন বেগমের স্বামী এমদাদুল হককে এক লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তারা মরদেহ দাফন করতে বলে তালা লাগানো ক্লিনিক খুলে দেন।

অভিযুক্ত ক্লিনিকের পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক হালিম অপারেশনটি করেছেন। অপারেশনে কোনো ত্রুটি হয়নি। রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাটি ইতোমধ্যে আপস মীমাংসা করা হয়েছে।

ক্লিনিকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, ক্লিনিকের অনুমোদন বিষয়ে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান আছে।

বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক হালিমের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, মোকামতলা ক্লিনিকটি অবৈধ। সেখানে এক রোগীর মৃত্যুর পর ক্লিনিকে তালা দেয় পুলিশ। তবে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করে দিয়ে বন্ধ ক্লিনিকটি খুলে দেন। এছাড়া মৃত নারীর পরিবারের কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লিমন বাসার/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।