তিতলির রাতে কক্সবাজারে ১১ গরু চুরি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮
প্রতীকী ছবি

গণপিটুনীতে গরুচোর সিন্ডিকেটের ফরহাদসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর বছরখানেক বন্ধ ছিল গরু চুরি। কিন্তু চলতি মাসে ফের শুরু হয়েছে গোয়াল ঘর থেকে গরু লুট। ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে টানা বৃষ্টির মধ্যেই গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সদরে ছয়জন গৃহস্থের ১১টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাত একটার দিকে ঈদগাঁওয়ের ৪নং ওয়ার্ডের চাঁন্দেরঘোনা এলাকায় চার গৃহস্থের গোয়াল ঘরে হানা দেয় চোরের দল। তারা স্থানীয় জাকারিয়ার গোয়াল ঘর থেকে ৩টি, আব্দুর রহমানের ২টি, মনজুরের ১টি, নুর মোহাম্মদের ১টিসহ একরাতে ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া পরদিনই বৃহস্পতিবার ভোরে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ইউছুপের খীল এলাকায় গিয়াস উদ্দীনের ২টি ও ইসমাঈলের ২টি গরু গোয়াল ঘর থেকে নিয়ে গেছে চোরের দল। লুট হওয়া এসব গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা হবে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।

ইসলামাবাদ ইউপির ইউছুপেরখীর এলাকার মেম্বার দিদারুল ইসলাম জানান, ঘুর্ণিঝড় তিতলির কারণে বৃষ্টির তোড়ে সবাই ঘরবন্দি থাকার সুযোগে চোরের দল চারটি গরু নিয়ে যায়। খবর পেয়েছি মুখোশ পরিহিত সশস্ত্র চোর গোয়াল ঘরে হানা দিয়ে গরুগুলো নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীদের মতে, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বপালনকালে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খায়রুজ্জামান প্রথম গরুচোরদের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। পাড়ায় পাড়ায় লোকজনকে সজাগ রেখে চোরদের প্রতিহত করেন তিনি। এ সময় গরু নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দু’বছর আগে চকরিয়ার শীর্ষ গরু চোর ফরহাদ জনতা ও পুলিশের হাতে মারা যান। এরপর একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায় চুরি। খায়রুজ্জামান বদলি হওয়ার পরও দীর্ঘদিন আড়ালে থাকে গরুচোর সিন্ডিকেট। কিন্তু সম্প্রতি আবারও বেড়েছে গরুচুরি।

জানতে চাইলে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল কায়েস আখন্দ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত এবং লুট হওয়া গরু উদ্ধারে সোর্স লাগানো হয়েছে।

হঠাৎ গরুচুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের মতো সবার সহযোগিতায় কঠোর সিদ্ধান্তে নামবে পুলিশ।

ঈদগাঁও কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক কায়ুম উদ্দিন ডিসেন্ট জানান, ঈদগাঁওয়ে দায়িত্বপালন করা পুলিশের সাহসী কয়েকজন অফিসারের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ আর অভিযানের কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল গরুচুরি। কিন্তু আবার গরুচুরি বাড়ায় সবাই হতভম্ব হয়ে পড়ছে। উৎকণ্ঠা বাড়ছে সবার। তাই রাতের বেলায় পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ে জড়িতদেরও টহল বাড়াতে আহ্বান জানান তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :