এক কেজি ইলিশ ১০০ টাকা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুন্সীগঞ্জে ইলিশ ধরা ও বিক্রি দুটোই চলছে সমানতালে। জেলার পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা রীতিমত উৎসবে পরিণত হয়েছে। আবার নদীর তীরেই বসছে ইলিশের হাট। সেখানে ইলিশ কেনাবেচার ধুম পড়েছে। এমনকি মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় মিলছে এক কেজি ইলিশ।

মেঘনা ও পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় ইলিশ বিক্রির ধুম পড়েছে। নানা কৌশলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ইলিশ। বাজারে না মিললেও ক্রেতার হাতে ঠিকই পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ইলিশ।

মুন্সীগঞ্জের পদ্মানদী বেষ্টিত লৌহজং উপজেলার পথে ঘাটে ও বাড়ি বাড়ি দেদারছে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার উত্তর হলদিয়া গ্রামে বস্তাভর্তি করে এক কিশোরের ইলিশ বিক্রি করার চিত্র সবার নজরে পড়ে। ওই গ্রামের এক গৃহবধূ মাত্র ৫০০ টাকায় ৫ কেজি পরিমাণ ২৩টি ছোট-বড় ইলিশ কেনেন ওই কিশোরের কাছ থেকে।

এছাড়া বোরকা পরিহিত অবস্থায় নারীরা ট্রাভেল ব্যাগে করে ইলিশ বিক্রি করছেন এমন চিত্রও দেখা গেছে সেখানে।

Munsiganj2

জানা গেছে, দিনে অভিযান পরিচালনার কারণে রাতে লৌহজংয়ে পদ্মা নদী হয়ে পড়ছে অরক্ষিত। ফলে অসাধু জেলেরা হয়ে উঠছে বেপরোয়া। এ সুযোগে তারা অবাধে ও নির্ভয়ে ইলিশ শিকার করছে।

এদিকে জেলা সদরের চরাঞ্চল আধারা ইউনিয়নের চরআব্দুল্লাহ, কালীরচর ও বকচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা কিছুতেই থামছে না। প্রতিদিন শত শত কেজি মা ইলিশ ধরছেন সেখানকার জেলেরা।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল বকচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরেই বসছে ইলিশের হাট। মেঘনা তীরের অঘোষিত ওই হাটে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন পাইকার ও খুরচা মৎস বিক্রেতারা। নদীর তীরেই কেনাবেচা হচ্ছে এসব ইলিশ। এসব অস্থায়ী হাটগুলোতে রীতিমত আড়ত খুলে ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে শুক্রবার জেলা সদরের চরাঞ্চল আধারা ইউনিয়নের বকচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে ইলিশ কেনাবেচার এ হাটের চিত্র দেখা গেছে।

Munsiganj2

জানা গেছে- আধারা ইউনিয়নের চরআব্দুল্লাহ, কালীরচর ও বকচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে প্রতিনিয়ত ইলিশ ধরা হচ্ছে। ইলিশ শিকারে এখানে ২০০ জেলে সক্রিয় রয়েছে।

তবে প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুন্সীগঞ্জের পদ্মানদীতে মা ইলিশ ধরার দায়ে গত বুধবার (১০ অক্টোবর) ২২ জেলের ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাশিদ বিন এনাম ও সুবীর কুমার দাশ।

ওই কর্মকর্তারা জানান, মা ইলিশ রক্ষার্থে পদ্মানদীতে এই মৌসুমে প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় মাছ ও জালসহ জেলেদের আটক করে জরিমানা কিংবা কারাদণ্ড প্রদান করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় আমাদের অভিযানের আগাম বার্তা পেয়ে সটকে পড়ে ধূর্ত জেলেরা। কিন্তু প্রজনন মৌসুমে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :