পাওনা টাকা চাওয়ায় বিধবাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদরাসার সহকারী সুপারের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা চাওয়ায় এক বিধবাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বিধবাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
গত রোববার (১১ নভেম্বর) উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিধবার পুত্রবধূ বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে চিলমারী রাজারভিটা গার্লস আলিম মাদরাসার সহকারী সুপার মাহফুজুর রহমান (৫০) একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রশিদা বেওয়ার (৬০) কাছ থেকে তিন বছর আগে ৬৫ হাজার টাকা ধার নেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময় তারিখ দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন।
রোববার ওই সহকারী সুপারের কাছে বিধবা রশিদা বেওয়া ও আম্বিয়া খাতুন (৫০) পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মাহফুজুর রহমান ও তার বাড়ির লোকজন ওই বিধবা এবং আম্বিয়া খাতুনকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর বিধবাকে ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মুখের ভেতর গামছা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন করেন।
ওই দিন বিকেলে বিধবার স্বজনরা তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ফটক ভেঙে নির্যাতিত বিধবাসহ আম্বিয়াকে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে এবং নির্যাতনকারী সহকারী সুপারকে গ্রেফতার করে।
রশিদা বেওয়ার পুত্রবধূ খুকি বেগম বাদী হয়ে মাহফুজুর রহমানসহ পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ মাহফুজুর রহমানের বড় বোন মর্জিনা বেগমকে (৫৫) গ্রেফতার করে।
উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রফিকুল ইসলাম সরদার জানান, রোববার পুলিশ অসুস্থ দুই নারীকে এখানে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।
উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিধবাকে বেঁধে নির্যাতন করায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরএআর/পিআর