বাবা হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে শিশু হাফসা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছোট্ট শিশু উম্মে হাফসার চোখে-মুখে কেবলই বিষণ্নতা। তার বাবা নেই, আর ফিরবেও না কোনো দিন। বাবার বুকে মাথা রেখে আর ঘুমাতে পারবে না সে। দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে হাফসার বাবা হারুন মিয়া (৫৫)। তাই বাবার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শত মানুষের ভিড়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছে পাঁচ বছরের শিশু হাফসাও।

হারুন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর কসবা উপজেলার কালতা ও চকবস্তা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে রেললাইনের পাশ থেকে হারুনের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় প্রথমে আদালতে এবং পরবর্তীতে ৩ ডিসেম্বর ১০ নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন হারুনের স্ত্রী হাসিনা বেগম।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কসবা উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্বরে হারুন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সাধারণ জনগণের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন হারুনের স্ত্রী হাসিনা বেগম, ছেলে আলমগীর মিয়া, মেয়ে হাফসাসহ তার স্বজন এবং এলাকাবাসী। তাদের সবার হাতেই ছিল হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন পোস্টার ও প্লেকার্ড।

Hafsa

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোলেমান খান, সহসভাপতি সোহরাব হোসেন, কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, হারুন মাদক ও চোরাকারবারীদের জন্য পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি চোরাকারবারীদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দিতেন। সেজন্য তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তারা।

হারুনের ছেলে আলমগীর মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, কসবা উপজেলার কাইমপুর ইউনিয়নের নাখাউড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কুমিল্লার সিআইডি কর্মকর্তা আলী আজ্জম আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে মিলে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিদের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কান্তি দাস জাগো নিউজকে বলেন, অপমৃত্যু মামলা থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার কারণে একটু সময় লাগছে। সিআইডি কর্মকর্তা আলী আজ্জম মামলার প্রধান আসামি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আমরা সদর দফতরে প্রতিবেদন দিয়েছি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে চাক্ষুষ কোনো প্রমাণ বা সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :