দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি নাজমুল

মাহাবুর আলম সোহাগ
মাহাবুর আলম সোহাগ মাহাবুর আলম সোহাগ , সহকারী বার্তা সম্পাদক (কান্ট্রি ইনচার্জ)
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দুই বছর ধরে জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ৩২ বছর বয়সী যুবক নাজমুল ইসলাম। এ রোগের কারণে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত চামড়া উঠে যাচ্ছে। বর্তমানে চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই তার বয়স ৩২ বছর। টগবগে যুবক কর্মঠ নাজমুল এখন নিস্তেজ। অসহ্য যন্ত্রণায় কাটছে তার প্রতিটি দিন। একাধিক ডাক্তার ও কবিরাজের চিকিৎসা নিয়েও কোনো ফল পাননি তিনি।

ভ্যান চালিয়ে ও মাছের ব্যবসা করে যা আয় করেছিলেন সবটাই শেষ করেছেন চিকিৎসা করাতে গিয়ে। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে তার আয় উপার্জন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় সংসার চলছে তার। অসুস্থ স্বামী আর এক মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা পড়ছেন স্ত্রী লাকী খাতুন।

আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের কালামনগর গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে দরিদ্র নাজমুল ইসলাম। সরকারি খাস জমিতে বসবাস করেন স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে। বর্তমানে বাড়িতে একপ্রকার বদ্ধ ঘরে কাটছে তাদের দিন।

নাজমুল জানান, মাছের ব্যবসা করার কারণে দুই বছর আগে হাতে চুলকানি দেখা দেয়। প্রাথমিক চিকিৎসায় ভালো হওয়ার কিছুদিন পর আবারও চুলকানি শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। নানাভাবে চিকিৎসার করালেও কোনো লাভ হয়নি। মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের চামড়া শুকিয়ে খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এ অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না নাজমুল। দুই বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছে তার আয় উপার্জন।

স্ত্রী লাকী খাতুন জাগো নিউজকে জানান, একমাত্র সম্বল অটোভ্যানটি বিক্রি করে যা পেয়েছি সব শেষ হয়ে গেছে স্বামীর চিকিৎসায়। ঘরে কোনো খাবার নেই। প্রতিবেশীরা যা দেয় তাই দিয়ে চলছে সংসার। আমাদের দেখার মতো কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই।

তিনি বলেন, গ্রামের লোকজন অনেক সহযোগিতা করেছে, এখনও করছে। তাদের কারণেই হয়তো আমরা তিনটা মানুষ বেঁচে আছি। গ্রামের কেউ কখনও বাজার করে দিচ্ছে, কেউ ওষুধ কিনে দিচ্ছে। তবে এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।

southeast

লাকী খাতুন কান্না কণ্ঠে বলেন, ভাই মেয়েটার বয়স ২ মাস কম তিন বছর। অভাবের কারণে তাকে ভালো মন্দ খাওয়াতে পারি না। শাক আর আলু দিয়ে ভাত খাওয়াতে খাওয়াতে সে আর খেতে চায় না, খুব কান্না করে। তারপরও জোর করে খাওয়াই।
কান্না কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বললেন, ভালো তরকারি কই পাবো বলেন ভাই?

প্রতিবেশী আসাফ উদ্দৌলা, রাসেল আহমেদ ও তাসলিমা খাতুন বলেন, নাজমুলের বাড়িটা খাস জমির উপর। তাদের দেখার মতো তেমন কেউ নেই। চিকিৎসা করানোর মতো টাকা-পয়সা তাদের নেই। আমরা যে যতুটুক পারছি সাহায্য করছি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে? সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে পরিবারটি উপকৃত হবে।

তার রোগের ব্যাপারে কথা বলা হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ রোগের নাম এক্সফোলিয়েটিভ ডার্মাটাইটিস। তাকে সুস্থ করতে দরকার উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যা পাবনায় নেই। সে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিল, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা বা রাজশাহী নেয়ার জন্য পরিবারকে বলেছি।

চিকিৎসায় কত টাকা খরচ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা যাবে। তবে উন্নত চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয় আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আকরাম আলীর সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি জানা ছিল না। আমি আগামীকাল বৃহস্পতিবার নাজমুলের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

নাজমুলের রোগের বিষয়টি নিয়ে আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আগামীকালই তার খোঁজ নেয়া হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

নাজমুলের সঙ্গে কথা বলা যাবে ০১৭২৪-০৩৫৫৪১ নম্বরে।

এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।