স্বামীর কঙ্কালটা হলেও দাও, অনেক দূরে চলে যাব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আমার স্বামীকে জীবিত অথবা মৃত ফিরিয়ে দাও। অন্তত তার কঙ্কালটা দাও, আমি তাই নিয়ে অনেক দূরে চলে যাব। অপহৃত স্বামীকে ফিরে পেতে এভাবেই আকুতি জানিয়েছেন স্ত্রী জোসনা বেগম।

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে অপহরণ ও গুমের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এ বিষয়ে ইসমাইলের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী জোসনা বেগম বলেন, আমি তাদের বলে আসছি, আমার স্বামীকে জীবিত অথবা মৃত ফিরিয়ে দাও। অন্তত তার কঙ্কালটা দাও, আমি তাই নিয়ে তোমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাব। কিন্তু তারা আমার কথা শুনছে না। একজন মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রমাণও পেয়েছে। এরপরও আমার স্বামীর খোঁজ পাচ্ছি না।

জোসনা বেগম আরও বলেন, তাকে অপহরণ ও গুমের পাঁচ বছর কীভাবে পার করেছি আমরা, তা আল্লাহ জানেন। যাদের সন্দেহ করেছি তারা অপহরণের পর থেকে আমাকে ও আমার ছেলেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আমার ছেলেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছে তারা।

২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ী ইসমাইলকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। আজও ইসমাইলের অপেক্ষায় স্ত্রী-সন্তানসহ তার পরিবারের লোকজন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। একের পর এক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরও ইসমাইলের সন্ধান পায়নি পরিবার। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ বিভাগে (সিআইডি) তদন্তনাধীন আছে।

ইসমাইল অপহরণের ঘটনার সময় র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক ছিলেন সাত খুনের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক সাঈদ। তার বিরুদ্ধে মুক্তিপণ বাবদ দুই কোটি টাকা দাবির অভিযোগ আনেন ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা।

বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহ মাজহারুল বলেন, কাঁচপুর কুতুবপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়।

এ ঘটনায় কুতুবপুর এলাকার মোশারফ হোসেন, নাছির উদ্দিন, কাইয়ুম, মামুন, সেলিম ও কাউছারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়।

পূর্ব-শত্রুতার জের ধরে তারা অপহরণ করতে পারে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ইসমাইল হোসেন অপহরণ মামলাটি প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করেছিল। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে গত বছরের ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দেয়।

প্রতিবেদনে অপহণ হয়েছে দাবি করা হলেও আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি। এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি প্রদান করেন মামলার বাদী অপহৃতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান। নারাজি আবেদন শুনানি শেষে মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বাদী অপহৃতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান বলেন, মামলা দায়েরের কয়েকদিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের মাধ্যমে তৎকালীন র‌্যাব-১১-এর সিও তারেক সাঈদ মুক্তিপণ হিসেবে দুই কোটি টাকা দাবি করেন। তাদের কাছে আমার ভাই ইসমাইল রয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে এক সোর্সকে দিয়ে একটি চিরকুট পাঠান তারেক সাঈদ। এরপর এক কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আজও ইসমাইলকে ফেরত দেননি। যেকোনো উপায়ে আমরা ইসমাইল হোসেনকে ফেরত চাই।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।