টাকা নিয়ে গিয়ে বাবা দেখেন বালুর নিচে ছেলের লাশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কুমিল্লায় তৌহিদ (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। অপহরণের পর থেকে স্কুলছাত্রের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল অপহরণকারীরা।

এ ঘটনায় সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা শহর থেকে মাজহারুল ও অপু নামে দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে অপহৃত ছাত্রের মরদেহ একটি বালুর মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত তৌহিদ জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়িসংলগ্ন সালমানপুর গ্রামের আবু মুছার ছেলে এবং কোটবাড়ি কারিগরি প্রশিক্ষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত তৌহিদ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরই মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

তৌহিদের বাবা আবু মুছা বলেন, পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির পর অসহায় হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই এবং জিডি করি। কিন্তু টাকার জন্য সন্তানকে হারাতে হবে বুঝতে পারিনি।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অপহরণকারীরা তৌহিদের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। এতে আমি ওই ছাত্রের অভিভাবক সেজে অপহরণকারীদের সঙ্গে কথা বলি। মুক্তিপণের টাকা মোবাইল বিকাশের মাধ্যমে দিতে চাইলে তারা নিষেধ করে। সেই সঙ্গে নগদ টাকা নিয়ে তাদের দেয়া ঠিকানায় যেতে বলে।

তাদের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী সোমবার বিকেলে কুমিল্লা শহরের সাত্তার খান কমপ্লেক্সে তৌহিদের পরিবারের লোকজনকে টাকা নিয়ে পাঠাই এবং আমরা তাদের অনুসরণ করি। ওখানে যাওয়ার পর টাকা গ্রহণ করতে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাসিন্দা অপু (১৮) নামে এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করি। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী শহরের ধর্মপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার আজমির হোটেলের ম্যানেজার ও দেবিদ্বার উপজেলার খলিলপুর গ্রামের মাজহারুল (৩৮) নামে আরেক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

তৌহিদকে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য অপহরণের কথা স্বীকার করে তারা। তৌহিদকে তারা হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছে বলেও জানায়। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতো কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতি গ্রামের একটি বালুর মাঠের একপাশের মাটি খুঁড়ে তৌহিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, এ ঘটনা জানার পর তৌহিদের বাবা-মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এ ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।