পাবনা সুগার মিলে পড়ে আছে ৩১ কোটি টাকার চিনি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০২:০১ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়ায় অবস্থিত পাবনা সুগার মিলের আর্থিক দৈন্যতা কাটছে না। উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মিলে বর্তমানে অবিক্রিত পড়ে আছে ৬ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চিনি। মিল রেট অনুযায়ী এ চিনির দাম প্রায় ৩১ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে এই চিনি বিক্রি না হওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় গত কয়েক বছর যাবত বেতন বাবদ টাকার বদলে চিনি দেয়ার নিয়ম চালু করেছেন তারা। তবে এ ব্যবস্থায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। কেননা বেতন বাবদ তারা মিল রেটে চিনি পেলেও তাদের এই চিনি বাইরে বিক্রি করতে হচ্ছে ১২ শতাংশ কম দামে। এতে প্রতি মাসে বেতন থেকে তাদের গচ্ছা দিতে হচ্ছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে মিল কর্তৃপক্ষ ও সিবিএ নেতারা বলছেন, চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণে বেতন দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে বেতনের বদলে চিনি দেয়া হচ্ছে। এটি স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নয়।

এদিকে প্রতি মাসে বেতন থেকে ১২ শতাংশ টাকা কম পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। তবে মাস শেষে বেতন না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরার চেয়ে চিনির বিনিময়ে টাকা কম পাওয়াও ভালো বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মিলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. জামাল হোসেন বলেন, প্রতি মাসে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ মৌসুমে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং অন্য সময়ে এক কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়। মিলের চিনি বিক্রি না হওয়ায় সময় মতো বেতন দেয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের জন্য ‘চিনি বিক্রি করে বেতন গ্রহণ’ করার বিধান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মিল রেট (৫০ টাকা কেজি) থেকেও কম দামে চিনি বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রত্যেকে বেতনের টাকা থেকে ১২ শতাংশ পরিমাণ টাকা কম পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফউজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ফেডারেশনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সম্মতিতেই ‘বেতনের বদলে চিনি’- এ ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদ আলী আনসারী বলেন, বেসরকারি মিল ও আমদানি করা চিনির দামের সঙ্গে পার্থক্য থাকায় তাদের সুগার মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুণেমানে দেশি চিনি উন্নত হলেও আমদানিকৃত চিনির দাম বাজারে কম থাকায় এবং সাদা রঙের হওয়ায় মিষ্টির দোকানদাররা আমদানিকৃত চিনি পছন্দ করেন। এই চিনিতে মিষ্টির রঙ স্বচ্ছ হওয়ায় ক্রেতারা তা পছন্দ করেন। ফলে তাদের নজর সেই দিকেই। অথচ ব্যবহারে দেশি চিনি আমদানিকৃত চিনির চেয়ে পরিমাণে কম লাগে।

আলাউদ্দিন আহমেদ/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।