চাচার কামড়ে ভাতিজা হাসপাতালে
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকের গালে কামড় দিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত শিক্ষককে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের সিকদারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের সিকদারকান্দি এলাকা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন জাজিরা ব্রাইট স্টার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক খালিদ হাসান।
একই সড়ক দিয়ে আরেকটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন দক্ষিণ দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন বেপারী। মোটরসাইকেলকে সাইড না দেয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। তখন শিক্ষক আক্তার হোসেন শিক্ষক খালিদ হাসানের গালে কামড় দেন। এতে খালিদ আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা তার ওই ক্ষত স্থানে সাতটি সেলাই দেন।
ব্রাইট স্টার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক খালিদ হাসান বলেন, আমি কেন দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলাম এমন অভিযোগে আক্তার হোসেন আমার ওপর চড়াও হন। কিল ঘুষি দেয়ার একপর্যায়ে আমার বাম গালে কামড় দিয়ে মাংস তুলে নেন তিনি। আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেব।
দক্ষিণ দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন বেপারী বলেন, ওই ছেলেটি আমার সাবেক ছাত্র ও ভাতিজা। এলাকায় অনেকবার দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে মানুষের ক্ষতি করেছে। সোমবার সন্ধ্যায়ও সে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। আমি তার কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছি। সে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ওপর চড়াও হয়। তখন আমি আত্মরক্ষর্থে তার হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করি। এতে সে আঘাত পেতে পারে। আমি কেন তাকে কামড়াতে যাব? সে আমাকে মেরে আহত করেছে। এখন নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা বলছে সে।
জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, দুই শিক্ষক সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। ভাতিজার গালে চাচা কামড় দেয়ার মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস