অন্ধ গায়কের জন্য জেলা প্রশাসকের ভালোবাসা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ০৭ মার্চ ২০১৯

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাইয়ারগাঁও এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গায়ক মো. গোলাপ মিয়াকে বেহালা উপহার দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গোলাপ মিয়ার হাতে বেহালা তুলে দেন তিনি। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ শফিউল আলম, সহকারী কমিশনার ফয়সাল রায়হানসহ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. গোলাপ মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মো. গোলাপ মিয়া তার রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে ধন্যবাদ জানান।

গোলাপ মিয়া বলেন, ১৫ বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর ধরে লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন গান যেমন- রাধারমণ দত্ত, মরমি কবি ও সাধক হাছন রাজা, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, জ্ঞানের সাগর দুর্বিন শাহর গান গেয়ে সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন করি আমি। সেই সঙ্গে এবং তাদের দানের অর্থে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি আমি।

জানা যায়, গোলাপ মিয়া তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। তার এক ছেলে কাইয়ারগাঁও এলাকার আনন্দ স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র এবং এক ছেলে কাইয়ারগাঁও মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। গত বছর শবে বরাতের রাতে তার বাসা থেকে রুটি-রুজির অবলম্বন বেহালাটি চুরি হয়ে যায়। বেহেলাটি চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি খুবই অসহায় হয়ে পড়েন। বন্ধ হয়ে যায় তার আয়ের পথ। বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও একটি বেহালা জোগাড় করতে পারেননি তিনি। সবশেষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে তার আয়ের অবলম্বন বেহালা চুরি ঘটনা উল্লেখ করে সহায়তা চাইতে জেলা প্রশাসক তার জন্য একটি নতুন বেহালার ব্যবস্থা করে দেন।

গোলাপ মিয়া বলেন, বেহেলা পাওয়ায় আমার খুব উপকার হবে। নতুন করে বাঁচার অবলম্বন পেয়েছি আমি। আবারও নতুন করে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পথে প্রান্তরে গান পরিবেশন করে লোকজ সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারসহ জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করতে পারব।

এএম/এমকেএইচ