১০ টাকার কম নেয় না হাতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯

হাতি জীবিত থাকলে লাখ টাকা আর মারা গেলে সোয়া লাখ টাকা। সেই হাতি দিয়ে করা হচ্ছে চাঁদাবাজি। দিনাজপুরের বিরল ও সদর উপজেলায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ পথচারী, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। হাতি দিয়ে গাড়ি থামিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা। এই টাকা আদায়ে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ।

সদর ও বিরল উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট ও গ্রামে ঢুকে হাতি দিয়ে অভিনব কায়দায় চলছে চাঁদাবাজি। হাতি দিয়ে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায়ের কারণে বিড়ম্বনায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। হাতি শুঁড় দিয়ে মানুষ ও যানবাহন থামানোর কারণে ভুক্তভোগীরা ইচ্ছার বিরুদ্ধে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রোববার ও সোমবার বিরল উপজেলা ধুকুরঝাড়ি, মঙ্গলপুর, বাজনাহার, বিরল বাজার মোড়, কাঞ্চনঘাট, বেতুড়া, রামপুরসহ দিনাজপুর বোচাগঞ্জ সড়কে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানসহ দিনাজপুর-রামসাগর সড়কে সড়কে হাতি দিয়ে চাঁদাবজির এ দৃশ্য সবার নজরে পড়ে।

Dinajpur-Extortion

সরেজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুর বোচাগঞ্জ সড়কের বিরল উপজেলার বাজনাহার এলাকায় বড় আকৃতির দুটি হাতি। পিঠে বসে আছে ২০-২৫ বছর বয়সের দুই যুবক। যারা হাতির মালিক (মাহুত)। পিচ ঢালা রাস্তায় চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি মাহুতকে পিঠে নিয়ে হেলেদুলে রাস্তার দুইপাশ দিয়ে চলছে দুটি হাতি। রাস্তার পাশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে শুঁড় উঁচু করে জানাচ্ছে সালাম। এ ছাড়া হাতি রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে দেয়ায় দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ।

একজন পথচারী জানান, হাতিকে ১০ টাকা করে দিতে হবে, কারণ হাতি শুঁড় দিয়ে চেপে ধরছে। ১০ টাকার কম দিলে তা গ্রহণ করছে না। ১০ টাকা দিলে হাতিটি পিঠে বসে থাকা মাহুতকে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা দিয়ে দেয়।

বাজনাহার বাজার এলাকার আরেকজন জানান, হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে ক্রেতারা ভয়ে দোকানে ঢুকতে সাহস পান না। বিড়ম্বনা এড়াতে দোকান মালিকরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে দেন। যাতে হাতি তাড়াতাড়ি দোকানের সামনে থেকে চলে যায়। অপরদিকে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়েও টাকা আদায় করছে হাতি।

Dinajpur-Extortion

আর এর উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো টাকা নেয়া। টাকা পেলেই তা ধরিয়ে দিচ্ছে পিঠে বসা মাহুতকে। এভাবেই দোকানে দোকানে সালাম দিয়ে আদায় করছে টাকা। দোকান মালিকদের কেউ ১০ টাকার কম দিলে ওই টাকা না নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে হাতি। টাকা না দিলে হাতি তার শুঁড় উঁচিয়ে চিৎকার দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। অনেক সময় হাতি শুঁড় দিয়ে দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট করছে। যানবাহনে শুঁড় দিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে। তাই বিপদ এড়াতে বা হাতির প্রতি সহনুভূতি দেখিয়ে মানুষ দ্রুত টাকা বের করে দিচ্ছেন।

১০ টাকা দেয়ার পর শুঁড় দিয়ে ওই টাকা নিয়ে তার পিঠে বসা মাহুতকে ধরিয়ে দিয়ে সেখান থেকে আরেক দোকানে বা যানবাহনে গিয়ে একইভাবে টাকা আদায় করছে। এভাবে প্রতিদিন একটি হাতি প্রায় ২/৩ হাজার টাকা আয় করে। এটা ঠাণ্ডা মাথার চাঁদাবাজি বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/পিআর