খুলে নেয়া হলো সরকারি সেতুর লোহার গেট
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলীয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কাশীপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ির সামনের খালের ওপর সেতুতে থাকা লোহার গেটটি খুলে নেয়া হয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে জগদীশ বিশ্বাসের ছেলেরা গেটটি খুলে নিয়ে যায়।
১৪ এপ্রিল ‘সরকারি সেতুতে লোহার গেট’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুর রহমান শেখের নজরে আসে বিষয়টি। তিনি তিনদিনের মধ্যে জগদীশ বিশ্বাসের ছেলেদের লোহার গেট খুলে নেয়ার নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, সরকারি সেতুর ওপর লোহার গেটের কথা শুনে ঘটনাস্থলে যাই। জগদীশ বিশ্বাসের ছেলেদের তিনদিনের মধ্যে গেটটি সরিয়ে দিতে বলেছিলাম। নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার রাতে তারা গেটটি খুলে নিয়েছে। সরকারি সেতুতে গেট করা যাবে না।
এলাকাবাসী জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭৫ টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার চিতলীয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কাশীপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ির সামনে একটি সেতু তৈরি করা হয়। কিন্তু সেই সেতুটি মৃত জগদীশ বিশ্বাসের চার ছেলে ব্যবহার করছেন। তারা সেতুটিতে গত ফেব্রুয়ারিতে লোহার গেট দেন। যা বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকতো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগদীশ বিশ্বাসের ছেলে দুলাল বিশ্বাস শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের এপিএসর দায়িত্ব পালন করছেন।
জগদীশ বিশ্বাসের ছেলে সুবাস বিশ্বাস বলেন, আমার বাবা জগদীশ বিশ্বাস সাবেক সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হকের পারিবারিক ডাক্তার ছিলেন এবং এমপির বাড়িতে পড়াতেন। এমপি আমার বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। তাই এমপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। চোর, ডাকাত, বহিরাগত এবং গবাদি পশু যাতে বাড়িতে ঢুকতে না পারে সেজন্য লোহার গেট দিয়েছিলাম। সোমবার রাতে গেটটি খুলে দেয়া হয়েছে।
মো. ছগির হোসেন/এএম/পিআর