প্রবাসীর স্ত্রীকে চার বছর ধর্ষণ, এবার নজর মেয়ের দিকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মানিকগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে চার বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আলী হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই নারীকে অন্য ছেলেদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো। এখানেই শেষ নয় আলী হোসেনের কুদৃষ্টি পড়ে ওই নারীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ের ওপর। তাকেও ধর্ষণের ফাঁদ পাতেন আলী হোসেন। এরপরই ঘটনা ফাঁস হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী। এরপর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত আলী হোসেন। ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দরবেশ বেপারীর ছেলে অভিযুক্ত আলী হোসেন।

ওই নারী জানান, তার স্বামী পাঁচ বছর আগে মালয়েশিয়া গেছেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী আলী হোসেন প্রথমে তাকে উত্ত্যক্ত করতো। মোবাইলে কথাবার্তা হওয়ার একপর্যায়ে তাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে আলী হোসেন তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে রাখে। এরপর তার কথা না শুনলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি। ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গত চার বছর ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছে আলী হোসেন। শুধু তাই নয়, আলী হোসেনের দুই দোকান কর্মচারীসহ অন্য ছেলেদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো তাকে।

তিনি আরও বলেন, আলী হোসেন বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে ৮ লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা চাইলেই সে ওই ভিডিওর ভয় দেখায়। একপর্যায়ে আলী হোসেন তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দিকে নজর দেয়। শর্ত দেয় মেয়েকে কাছে পেলেই কেবল ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। বাধ্য হয়ে সোমবার দুপুরে আলী হোসেনের কথা মতো মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মানিকগঞ্জ শহরের সেওতা এলাকায় মনিকা বেগমের বাসায় যান।

বাইরের লোকের আনাগোনা থাকায় বাসাটি আশপাশের সবার নজরে ছিল। অনেক দিন ধরেই। তিনতলা ভবনের চিলে কোঠার একটি রুমে আলী হোসেন ওই নারীর মেয়েকে ডেকে নিলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে ঘটনা জানাজানি হয়। এ সময় আলী হোসেন নিজের স্মার্টফোন ফেলে দ্রুত সটকে পড়ে।

মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. হানিফ সরকার জানান, এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে আলী হোসেন ও বাড়ির মালিক মনিকা বেগমের নামে মামলা করেছেন। আসামিরা পলাতক আছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মঙ্গলবার জেলা সদর হাসপাতালে ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

বি.এম খোরশেদ/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :