প্যানেল মেয়রের নির্দেশে বিএনপি নেতা শাহীন খুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯
নিহত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন

বগুড়ায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন খুনের ঘটনায় বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামকে দায়ী করা হয়েছে। তার নির্দেশেই কিলার গ্রুপের একটি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি তারা।

এদিকে আমিনুল ইসলাম নিজস্ব ফেসবুক ওয়াল থেকে তার নিজের ছবি দিয়ে ওপরে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয়ের ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার লাগিয়ে পোস্ট করেছেন। এতে তিনি দাবি করেছেন হত্যা মামলাটি বিএনপি কর্তৃক দায়ের করা এবং সেটি মিথ্যা ও বানোয়াট।

এর আগে নৃশংস খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলামের সহযোগী হিসেবে পরিচিত শহরতলীর বড় কুমিড়া এলাকার সোহাগ, ছোটকুমিড়া সরদারপাড়ার বিদ্যুৎ, ছোটকুমিড়া পশ্চিমপাড়ার মাহমুদ, আজিজুল ইসলাম কাইল্লা ও শহরের নিশিন্দারা এলাকার পায়েল।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই খুনীরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

নিহত মাহবুব আলম শাহীনের স্ত্রী আকতার জাহান দাবি করেন, পরিবহন ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বাসের ব্যবসা নিয়ে মালিক সংগঠনের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ ছিল তার স্বামী মাহবুব আলমের। সেই বিরোধের জেরেই ভাড়াটে খুনি লেলিয়ে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় হত্যাকাণ্ডের পরও মামলা করার আগেই প্রভাবশালী মহল থেকে পরিবারের সদস্যদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। তারা এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে মাহবুব আলম খুনের ঘটনা তদন্তে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আরিফুর রহমান মন্ডলকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক নূরে এ আলম সিদ্দিকী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান, ডিবির পরিদর্শক আছলাম আলী, উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম এবং ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আমবার আলী।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের ক্লু পরিষ্কার হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। শিগগিরই তাদের ধরা সম্ভব হবে।

লিমন বাসার/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :