জন্মের পর থেকে বিদ্যুৎ দেখেনি ২০ হাজার মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৩২ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

বর্তমান সরকারের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা থাকলেও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গাচর ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ এখনও বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত। বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও সেখানে নেই বিদ্যুৎ। তাই অনেকে বাধ্য হয়েই সৌর বিদ্যুতের প্রতি ঝুকছেন। এছাড়া এ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের আশ্বাস পেলেও এখনও না পেয়ে আর আস্থা রাখতে পারছেন না।

সরেজমিনে সদর উপজেলার রঙ্গাচর ইউনিয়নের বৃন্দাবন নগর, চিনাউড়া, রংপুর, কান্দিগাঁও, বনগাঁও, সমাদ নগরসহ ঘুরে দেখা যায় বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও এখানে আসেনি বিদ্যুৎ। কয়েকটি বাসায় সৌরবিদ্যুৎ থাকলেও তা তেমন কোনো কাজে আসছে না। হাওর ও সীমান্ত বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় বেশিভাগ মানুষই এখানে কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এসব এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গরমে ফ্যান ও আলো ছাড়াই করতে হয় পড়াশুনা।

চিনাউড়া গ্রামের কৃষক লতিফ আলী বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রধান কাজ হলো কৃষি করা। কিন্তু সারাদিন মাঠে কাজ কইরা যে একটু ফ্যানের বাতাস খাইমু তার কোনো উপায় নাই। ২-৩টা এলাকাত বিদ্যুৎ হইলে আমরা এখনও বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত।’

Sunamgonj-Corent

কান্দিগাঁও এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ দেখছিনা জন্মের পর থাকি। এখনতো সরকার সবাইরে বিদ্যুৎ দেয় কিন্তু আমরার এলাকাত বিদ্যুৎ নাই। কারেন্ট নাই দেখিয়া ছেলে মেয়েরা ঠিকমতো পড়াশুনা করতে পারে না। সরকারের উচিত আমরার দিকে নজর দেয়া।’

বনগাঁও গ্রামের শাহিন আলম বলেন, আমার ঘরে সৌর বিদ্যুৎ আছে। বৃষ্টির দিন আইলে হারিকেন অথবা মোমবাতিই শেষ ভরসা। গ্রামো খুঁটি লাগাই থাকলেও এখনও বিদ্যুৎ আইছে না। আমরা পুরাপুরি একটি অবহেলিত গ্রাম।

সাবেক মেম্বার শামছুল হক বলেন, এ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ এলেও অধিকাংশ গ্রামেই বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুতের উদ্যোগে ওই সব এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি লাগালেও বিদ্যুৎ আসেনি। আমরা অনেকবার এ কাজটি দ্রুততার সঙ্গে করার দাগিত দিলেও সেটা হয়ে উঠছে না। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে বলেছেন কিন্তু তারা তা শুনছে না।

রঙ্গাচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়ে বলেন, আমি অনেকবার উপজেলার সমন্বয় সভায় আমার ইউনিয়নের বিদ্যুতের বিষয়ে কথা বললেও পল্লীবিদ্যুৎ তা আমলে নিচ্ছে না। তারা আমাকে টেন্ডার হয়ে গেছে কাজ শুরু হয়ে যাবে এসব বললেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কিছুদিন আগে কয়েকজন এসে কাজ করলেও দায়সারাভাবে কাজ করেছে। তাদেরকে অনেকবার বলেছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার অখিল কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে সবকয়েকটি গ্রামের শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে। তাছাড়া রঙ্গাচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যদি আমাকে বলেন তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এখানে আমাদের কাজের কোনো গাফিলতি নেই।

মোসাইদ রাহাত/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।