সেই স্কুল পরিদর্শন করলেন শিক্ষা ও এলজিইডি কর্মকর্তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী। সোমবার সকালে তারা পরিদর্শনে আসেন।

‘৩ মাসেই ফেটে গেল ৭৩ লাখ টাকার ভবন’ শিরোনামে গতকাল রোববার জাগোনিউজ২৪.কমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি নজরে পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়ার।

পরিদর্শনের পর এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমি ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটি পরিদর্শন করেছি। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। কাজটিতে ঠিকাদারের গাফলতি ছিল। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন ভবনটি এলজিইডিকে এখনও বুঝিয়ে দেয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। ভবনটির কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন ভবন ফাটলের বিষয় এলজিইডির মহাপরিচালককে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানীয় পাঞ্জু শিকদার ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। টিনশেড মূল ভবনের পাশে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৩-এর আওতায় ২০১৭ সালে এলজিইডি বিভাগ ৭৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। চারতলা ভবনটির একতলার নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষকে চার কক্ষের ভবনটি বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদার। বুঝিয়ে দেয়ার পর থেকেই ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। মেসার্স আব্দুল মান্নান লস্কর নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণের কাজ পায়। পরে কাজটি মেসার্স সোহেল খান ট্রেডার্স এর কাছে বিক্রি করেন।

নির্মাণের তিন মাসের মাথায় বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। তবু ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনে চলছে পাঠদান। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিটি জানালার কলামে বড় বড় ফাটল। মেঝের ফ্লোরের পলেস্তারা উঠে গেছে। সিঁড়ি ফেটে আলাদা হয়ে গেছে। ভবনের দেয়ালেও রয়েছে অসংখ্য ফাটল। ভবনের বারান্দার গ্রিলগুলোতে বাঁশের স্টিক দিয়ে ফিক দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩৮ জন। শিক্ষক আছেন চারজন।

ছগির হোসেন/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।