খাল খননে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ব্যাপক অনিয়ম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ০৫ মে ২০১৯

নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় খরা মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণ এবং কৃষি জমিতে পানি সেচের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতায় খাল খননের কার্যক্রম চলছে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। খাল থেকে পানি সেচ করে খননের কথা থাকলেও পানির মধ্যেই মেশিন দিয়ে খনন করা হচ্ছে খাল। ফলে কী পরিমাণ খননকাজ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, খননকৃত মাটি খালের পাড়ে রাখার ফলে কৃষকদের চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকরা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুজাইল রেগুলেটর থেকে সরগরামপুর ও সাদোকালীর মাঠ (বিল) হয়ে রেলওয়ে চকের ব্রিজ চকবলরাম পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলছে। কাজের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা। খনন করা হবে খালের তলা ১০ মিটার, স্থানভেদে সাবেক গভীরতা ১ মিটার বা তার কম এবং ওপরের দিকে গড় ১৮-২০ মিটার।

এ উপজেলার কাশিমপুর ও গোনা ইউনিয়নের কুজাইল, দূর্গাপুর, সরগরামপুর, ভবানিপুর, এনায়েতপুর, গোনা ও খট্টেশ্বর গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার কৃষকদের একটিমাত্র ফসল ইরি-বোরো। খরা মৌসুমে খালে পানি থাকে না। ফলে জমিতে ঠিকমতো পানি দেয়া সম্ভব হয় না। তাই খরা মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণে রাখতে খাল খনন করা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে খাল খনন করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। আবার খননকৃত মাটি খালের পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খালের পাড়ে রাখা মাটি আবারও খালে পড়ে ভরাট হয়ে যাবে। তবে কাজের শুরু থেকেই খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা বলছেন, খাল খননে যে পরিমাণ বরাদ্দ করা হয়েছে তার অর্ধেক টাকা খরচ হবে না।

Naogaon-River

দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, খাল যে পরিমাণ গভীর করার কথা তা করা হচ্ছে না। খালে পানি রেখেই মাটি কাটা হচ্ছে। পানির মধ্যে থেকে কী পরিমাণ মাটি কাটা হচ্ছে তা বুঝা যাচ্ছে না। ধারণার ওপর পানির মধ্যে মাটি কাটা হচ্ছে। আর খালের তলা তো সমান হওয়ার প্রশ্নই আসে না। খরা মৌসুমে পানি থাকার কথা থাকলেও তা হবে না। এতে সরকারের যে উদ্দেশ্য তা ভেস্তে যাবে।

সরগরামপুর গ্রামের কৃষক খাজা মন্ডল, মুনছুরসহ কয়েকজন বলেন, পাড় কেটে খালে নামিয়ে দিয়ে এরপর আবার মাটি পাড়ে রেখে দেয়া হচ্ছে। নদীর মধ্যে মাটি কাটা হচ্ছে না। খাল খননে মেলা টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আর যেভাবে খাল খনন করা হচ্ছে, তাতে অর্ধেক টাকাও খরচ হবে না। এখন ধান কাটার ভরা মৌসুম। মাঠ থেকে ধান কাটার পর খালের পাড় দিয়ে কৃষকদের আসা-যাওয়া করতে হয়। খালের পাড়ে যেভাবে মাটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ধানবোঝাই করে হেঁটে যাওয়া তো দূরের কথা, শুধু মানুষ হাঁটাই দায়।

দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক নাসির সরদার বলেন, কাজের মান একেবারেই খারাপ হচ্ছে। কোথাও মাটি কাটা হচ্ছে আবার হচ্ছে না। আমরা কিছু বললে আমাদের কথায় গুরত্ব দিচ্ছে না। যেন দেখার কেউ নেই।

স্ক্যাভেটর চালক সুমন বলেন, তলা ৩২ ফুট, স্লোব ১০-১৫ ফুট, গভীরতা ৩-৪ ফুট করা হচ্ছে। পানির মধ্য থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে গভীর হলেও সমান হচ্ছে না। কারণ পানিতে দেখা যাচ্ছে না।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ডেলটা প্ল্যানের আওতায় খালটি খনন করা হচ্ছে। সাড়ে ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ কিলোমিটার খননকাজ হয়েছে। তবে শিডিউলে যা আছে তা থেকে কিছুটা বেশিই খনন করা হচ্ছে। খালে কিছু দূর পর পর বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে সেখানে পানি জমে যাচ্ছে। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। এছাড়া পাড়ে যে মাটি রাখা আছে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হতে পারে অথবা মাটিগুলো সমান করে দিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আব্বাস আলী/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]