প্রকৃত মিলার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে মেহেরপুরে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
প্রকাশিত: ১১:৪৭ এএম, ২৯ মে ২০১৯

চাল ক্রয় কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে মেহেরপুরের গাংনী খাদ্য গুমাদ থেকে মঙ্গলবার আবারও চাল ফেরতের ঘটনা ঘটেছে। বাইরের জেলা থেকে চাল নিয়ে আসায় এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মিল মালিকদের তালিকা প্রস্তুত নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ৫৭৭ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের জন্য ১৪ জন মিলারের সঙ্গে চুক্তি করে খাদ্য অধিদফতর। শর্তানুযায়ী নিজ নিজ মিলে চাল তৈরি করে সরকারি গুদামে বিক্রি (সরবরাহ) করতে হবে। চাল তৈরির জন্য ধান কিনতে হবে এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে। যাতে ধানের দর বেশি পায় কৃষক।

গেল ২৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। মিল মালিকরা দুই ট্রাক চাল নিয়েও এসেছিলেন। কিন্তু চাল ওজনের এক পর্যায়ে আদ্রতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সরকার নির্ধারিত আদ্রতা ১৪ ভাগের বেশি থাকায় তা ফেরত দেয় খাদ্য বিভাগ।

এদিকে মঙ্গলবার অন্য এক মিলার দুই ট্রাক চাল নিয়ে যান গাংনী সরকারি খাদ্য গুদামে। ওজন করে গুদামে ঢোকানোর সময় চাল তৈরির স্থান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। অভিযোগ আনা হয়, এলাকার চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়নি এবং চালও তৈরি করা হয়নি তালিকাভুক্ত ওই মিলারের মিলে। তাই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ওই চাল ফেরত দেয় কর্তৃপক্ষ।

চাল ফেরতের এ ঘটনায় মিল মালিকদের সক্ষমতা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত ১৪ জন মিলারদের বেশিরভাগের মিল চলে না। কয়েকজনের চাতাল থাকলেও মিল নেই। তারপরও মিলের লাইসেন্স বাতিল হয়নি। কাগজে-কলমে তাদের মিলের অস্তিত্ব রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। মিল না থাকলেও তারা মিলার বনে গিয়ে সরকারি গুদামে চাল দিয়ে আসছেন। ফলে বাইরের এলাকার অটোরাইস মিল থেকে চাল কিনে এনে গুদামে দিচ্ছে। এতে এলাকার চাষিরা ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তালিকাভুক্ত ১৪ জন মিলার কোন নীতিমালায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন তা যাচাই-বাছাই ও মিল নেই এমন মিলারদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি উঠেছে।

অপরদিকে যারা প্রকৃত মিলার তাদের নাম তালিকাভুক্ত করে তাদের মিলে উৎপাদিত চাল ক্রয়ের দাবি করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেহেরপুর জেলা খাদ্য অফিসের একটি সূত্র জানায়, মিল না থাকলেও তারা মিলার এমন ধারা চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে এখন চিন্তিত খাদ্য অধিদফতর।

আসিফ ইকবাল/এফএ