উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করবে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেছেন, যশোরের বেনাপোলকে উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা দেয়া ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। ঢাকা-বেনাপোল রেল চালু শুরু হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও হবে। মানুষ রাজধানী ঢাকা থেকে যানজটমুক্তভাবে নিরাপদে বেনাপোল আসতে পারবে। কারণ বেনাপোল আন্তর্জাতিক বর্ডারসহ এখানে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। ব্যবসা বাণিজ্য, পাসপোর্ট যাত্রীসহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এ রেল হবে মাইল ফলক।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে বেনাপোল রেল স্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বেনাপোল রেল স্টেশনে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রেলের কর্মকর্তাসহ শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

পরে বেনাপোল রেল স্টেশনের পুলিশ ইমিগ্রেশন রুমে স্থানীয় সুধীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন রেলওয়ে মহাপরিচালক। এতে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মফিজুর রহমান সজন।

সভায় রেলওয়ে মহাপরিচালক বলেন, এই জনপদে এক সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও উন্নয়নের জন্য কয়েক দফায় এসেছেন। তিনি এই জনপদের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন। আজ তার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেনাপোলসহ প্রতিটি রেল স্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরি করার।

তিন আরও বলেন, এ ট্রেনটিসহ রেলের সকল সম্পদ আপনাদের সম্পদ। এই সম্পদ ধরে রাখার দায়িত্ব-কর্তব্য আপনাদের। আপনারা দেখবেন কোনো অপরাধী যাতে এই সম্পদের ক্ষতি সাধন না করে। চোরাচালানিরা যেন রেলের কোনো অংশ কেটে তাদের চোরাই পণ্য না ঢুকাতে পারে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, বেনাপোল থেকে এখন ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেন চালু হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ রুটে আরও একটি ট্রেন দেয়া হবে। এছাড়া বেনাপোল থেকে নড়াইল হয়ে মাওয়া দিয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকায় রেল চালু হবে।

এ সময় রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব কুমার ঘোষ, জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার শহিদুল ইসলাম, প্রধান অডিট অফিসার মো. আব্দুল মান্নান, প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ, প্রধান সংকেত ও টেলি প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হোসাইন মোহাম্মদ শওকত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন আহম্মেদ, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মনজু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক আলহাজ নুরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গছে, আগামী ১৭ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে দুপুর সোয়া ১টায় ছেড়ে যাবে। ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৯টায়। আবার ঢাকা থেকে রাত ১২.৪০ মিনিটে ছেড়ে বেনাপোল পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। ট্রেনটিতে ১২টি বগি থাকবে। দুটি এসি চেয়ার, একটি কেবিন ও বাকি নয়টি থাকবে চেয়ার কোচ। মোট আসন সংখ্যা হবে ৯০০। সপ্তাহে ৬ দিন নন স্টপ এ ট্রেনটি বেনাপোল-ঢাকা রুটে চলাচল করবে। ভাড়া শোভন চেয়ার ৫৬৪ টাকা, এসি চেয়ার ১০১৩ টাকা, এসি সিট ১২১৩ টাকা, এসি স্লিপার ১৮৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামাল হোসেন/আরএআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :