ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ৩ ফেরির দুটিই বিকল
ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়েছে ২টি ফেরি। ফলে এখন মাত্র ১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এতে করে দুই ঘাটে আটকা পড়েছে পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক শত যানবাহন।
এ অবস্থায় দিনের পর দিন দীর্ঘ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও সিরিয়াল পাচ্ছে না পণ্যবাহী যানবাহন। ফলে একদিকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা, অপরদিকে লোকসান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সেই সঙ্গে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদেরও।
জানা গেছে বুধবার (২৪ জুলাই) রাতে চাঁদপুর থেকে একটি ফেরি আপাতত পরিবহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য ভোলায় আসে। বৃস্পতিবার সেটি ইলিশা ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের কাজে যুক্ত হবে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার সঙ্গে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের দ্রুত যোগাযোগের জন্য ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। আগে এ রুটে প্রতিদিন ৪টি ফেরি চলাচল করত। এর একটি ফেরি চাঁদপুরে সরিয়ে নেয়ার পর থেকে কনকচাঁপা, কৃষাণী ও কলমিলতা নামে ৩টি ফেরি দিয়ে রুটটি চালু রাখা হয়। এ কারণে তখনও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ত। দুই থেকে তিনদিন অপেক্ষা করে ফেরির সিরিয়াল পেত পণ্যবাহী যানবাহনগুলো।
কিন্তু হঠাৎ করে গত ২১ ও ২২ জুলাই কৃষাণী এবং কলমিলতা ফেরি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে এখন মাত্র ১টি ফেরি দিয়ে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান পারাপার করা হচ্ছে। এছাড়া মেঘনায় তীব্র স্রোতের তোড়ে ফেরি পারাপারে অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে উভয় ঘাটে পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়েছে।
ট্রাকড্রাইভার মো. ইউসুফ জানান, বেনাপোল থেকে মাল বোঝাই করে চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বরিশাল হয়ে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে এসে গত ৩ দিন ধরে আটকে আছেন। ফেরি বিকল হওয়ায় পারাপারের জন্য প্রায় ৩ শতাধিক যানবাহন অপেক্ষা করছে। কবে পার হতে পারব জানি না।
কাভার্ডভ্যানের চালক মোহাম্মদ আলী জানান, গত ১৫ জুলাই চরফ্যাশন থেকে ধান নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ঘাটে এসেছেন। ধানে গজ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখন পার হতে পারেননি। কবে পারবেন তাও জানেন না।
পিরোজপুর থেকে একই রুট দিয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ট্রাকভাইভার আরমান হোসেন জানান, যখনই এ পথে আসি তখনই ঘাটে দীর্ঘ লাইন দিয়ে বসে থাকতে হয়। আবার কখনও কখনও ফেরি নষ্ট থাকে। ফলে এ ঘাটে আসলে প্রায়ই ১০/১২ দিন অপেক্ষা করতে হয়।

তিনি বলেন, দেশের সব কিছুই পরিবর্তন ও উন্নত হয়, কিন্তু এ ঘাটের এ অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না।
মো. আজিজুল হক নামে এক সাধারণ যাত্রী জানান, ৩ দিন আগে অফিসের কাজে ভোলা এসেছিলেন। কাজ শেষে এখন চট্টগ্রামের যাওয়ার জন্য ইলিশা ফেরিঘাটে এসে দেখেন কোনো ফেরি নেই। কখন আসবে তাও কেউ জানে না।
বিআইডব্লিউটিসির ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিসের ম্যানেজার মো. এমরান হোসেন জানান, বিকল হওয়া ফেরি ২টি মেরামত শেষে আগামী ২ দিনের মধ্যে আবারও পারাপারে যুক্ত হবে। তখন যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। এছাড়াও পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য বুধবার বিকেলে চাঁদপুর থেকে একটি ফেরি এখানে এসে পৌঁছেছে। সেটি দিয়েও পারাপারের কাজ চলছে।
জুয়েল সাহা বিকাশ/এমএমজেড/জেআইএম