সাতক্ষীরার এক ইউনিয়নে পাকা রাস্তা নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৯

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শেষ ইউনিয়ন সুন্দরবন উপকূলীয় দ্বীপ গাবুরা। উন্নয়নের কোনো স্পর্শই লাগেনি সেখানে। ইউনিয়নের কোথাও নেই পাকা রাস্তা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই ইউনিয়নের ৪০ হাজার বাসিন্দাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন বিল্লাহ্ এই জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে জানান, গাবুরা ইউনিয়নের মধ্যে কোথাও পাকা রাস্তা নেই। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কটিও কাঁচা। কোথাও কোথাও রাস্তার চিহ্ন পর্যন্ত নেই। বর্ষা মৌসুমে মানুষের ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। সব রাস্তায় কাদা আর পানি।

তিনি বলেন, শ্যামনগর সদর থেকে নওয়াবেকী বাজার, এরপর নদী পার হয়ে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে ১১ কি. মি. রাস্তার মধ্যে ৭ কি.মি. কাঁচা। এই ১১ কি.মি রাস্তা পর হওয়ার পর শুরু হয় গাবুরা ইউনিয়ন। চৌদ্দরশি ব্রিজ পার হওয়ার পর গাবুরা ইউনিয়নের কোথাও কোনো পাকা রাস্তা নেই। সড়কের বেহাল দশার কারণে এ ইউনিয়নে স্থানীয় এমপিও আসেন না।

মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেয়ার মত কোনো জনপ্রতিনিধিরও দেখা মেলে না। রাস্তার বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০৯ সালে আইলার আগে রাস্তার কিছুটা চিহ্ন থাকলেও বর্তমানে তাও হারাতে বসেছে। বিভিন্ন সময় ইউনিয়নের জীবনমান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ হয় বলে শুনেছি, তবে বাস্তবে সেসব উন্নয়নের দেখা আজও পাইনি। বর্তমানে বৃষ্টির পানিতে রাস্তায় স্থানভেদে ৩-৫ ফুট কাদার সৃষ্টি হয়েছে।

southeast

শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে জানিয়ে গাবুরা জিএলএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিনুর রহমান লিংকন জানান, এদিকের সব রাস্তা কাঁচা। পাকা রাস্তা নেই। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছে ৫শ’র বেশি। তবে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়। রাস্তা না থাকলে তারা আসবে কীভাবে?

জনদুর্ভোগ লাঘবের কোনো উপায় পাচ্ছেন না জানিয়ে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তার কথা কী বলব? এলাকায় চলাচলের মত কোনো রাস্তাই নেই, কোনো বরাদ্ধও নেই। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নে এমপি এস.এম জগলুল হায়দার সাহেবের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। সেখান থেকে গাবুরা ইউনিয়নের জন্য এক টাকাও বরাদ্ধ হয়নি। এ ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এস.এম জগলুল হায়দার গতবার এমপি নির্বাচিত হয়ে একবার এ ইউনিয়নে এসেছিলেন। তারপর হয়তো এখানে আসার আর সময় পাননি।

এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি না জানতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস.এম জগলুল হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অপরদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, গাবুরা ইউনিয়নের রাস্তার উন্নয়নের কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

আকরামুল ইসলাম/এমএমজেড/এমএস