রুয়েট শিক্ষকের স্ত্রীকে যৌন হেনস্তাকারীরা খেলোয়াড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৯

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শিক্ষকের স্ত্রীকে যৌন হেনস্তাকারী বখাটেরা খেলোয়াড়। এদের দুজন তায়কোয়ান্দো এবং একজন ভারোত্তলক। তাদের সঙ্গে ছিলেন তিন তরুণীও । তারাও তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়।

ওই তিন বখাটে হলেন নগরীর রাজপাড়া থানার আলীর মোড় এলাকার দুলালের ছেলে শাহানুর (১৯), বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রিপন (১৬) এবং নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাতার মোস্তাকের ছেলে বকুল আহম্মেদ (১৯)।

এদের মধ্যে বকুল জাতীয় জুনিয়র ভারোত্তলক। এছাড়া শাহানুর ও রিপন জাতীয় জুনিয়র তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়। সোমবার রাতে অভিযুক্ত এই তিন বখাটেকে গ্রেফতার করে নগর পুলিশ।

ওই শিক্ষকের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার দুপুরের দিকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে চারজন তরুণীও রয়েছেন।

তবে গ্রেফতারের পর এ তিন বখাটে পুলিশকে জানিয়েছে, সেদিন তাদের সঙ্গে ছিল তিন তরুণী। তারা সেদিন ছয়জনই ছিল। ওই তিন তরুণীর পরিচয়ও তারা পুলিশকে জানিয়েছে। এদের দুজনের নাম বৃষ্টি এবং একজন নাহার। এরাও জুনিয়র তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়।

এর আগে গত ১০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে নগরীর সোনাদিঘীর মোড়ে প্রকাশ্যে বখাটেরা যৌন হেনস্তা করে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী তাবাসসুম ফারজানাকে।

প্রতিবাদ করায় বখাটেরা লাঞ্ছিত করে ওই শিক্ষককে। প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটলেও ওই শিক্ষককে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি কেউই। এনিয়ে দেশ ত্যাগের কথা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়া শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ১৬ আগস্ট আট জনের নামে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষকের স্ত্রী। এরপর থেকে জড়িতদের ধরতে অভিযান জোরদার করে পুলিশ।

জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, শিক্ষকের স্ত্রীকে যৌন হেনস্তা ও শিক্ষককে লাঞ্ছনায় এ তিন বখাটেই জড়িত। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

এছাড়া তাদের সঙ্গে যে তিন তরুণী ছিল তাদের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা মেলেনি। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার দুপুরের পর অভিযুক্তদের আদালতে নেয়া হয়। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।

ফেরদৌস/এমএএস/জেআইএম