কক্সবাজারে এনআইডি জালিয়াত চক্র সন্দেহে আটক ৫

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০১:০২ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কক্সবাজার শহরের লালদিঘীর দক্ষিণপাড়ে জিয়া কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন জালিয়াত চক্র সন্দেহে ৫ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় জালিয়াতি কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে কম্পিউটার, স্ক্যানার ও প্রিন্টারও জব্দ করা হয়।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি দল শহরে জিয়া কমপ্লেক্সস্থ এস ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালান।

আটকরা হলেন- কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর তারাবনিয়ারছরা উকিলপাড়ার এটি ভবনের মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ (২১), পাহাড়তলীর ইলিয়াস মুন্সির বাড়ির মৃত মুহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৮), রহমানিয়া মাদ্রাসা এলাকার সৈয়দ করিমের ছেলে মোহাম্মদ ফরহাদ ( ২১), এসএম পাড়ার শামশুল হুদার ছেলে তাসিন হোসেন (২০) ও চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেধাকচ্ছপিয়ার হারুন-অর-রশিদের ছেলে মোহাম্মদ ওসমান (৩৫)।

লালদীঘিরপাড়ের জিয়া কমপ্লেক্সস্থ এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক শফিকুল ইসলাম কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে একটি এনজিও পরিচালিত নারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক বলে জানা গেছে।

এ সময় জব্দ করা হয় একটি ডেল নামীয় সিপিইউ কোর আই থ্রি, একটি ডেল নামীয় সিপিও কোর আই ৫, একটি ডিলাক্স নামীও সিপিইউ, একটি স্যামসাং ১৫ ইঞ্চি মনিটর, একটি ক্যানন স্ক্যানার, একটি প্রিন্টার।

জেলা গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া জানান, আটকতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, তারা পরস্পরের যোগসাজসে রোহিঙ্গাদের ভুয়া জন্ম সনদ, ভুয়া এনআইডি এবং পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করে আসছিল।

আসামিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, আটকদের পরিবার সূত্র দাবি করেছে জিয়া কমপ্লেক্সের এসব দোকানে রেজিস্ট্রি হতে যাওয়া দলিল টাইপ করা হয়। সাথে দাতা-গ্রহীতার ছবি ও তাদের আইডি কার্ড স্ক্যান করে প্রিন্ট দেয়া হয়। এখানে নতুন করে কোন এনআইডি কার্ড তৈরি কিংবা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরির বিষয়ে সহযোগিতা দেয়া হতো না। সে রকম কোনো ডকুমেন্টস তাদের কম্পিউটারে নেই। এরপরও কোন অদৃশ্য শক্তির ঈশারায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এদের মাঝে ওসমানসহ অন্যদের পরিবারে চুলায় হাড়ি উঠে এখানকার আয়ে। তাদের আটকের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়বে তাদের পরিবার।

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার/এমআরএম