হাসপাতালে ট্রলিসেবা বদলে গেলেও কাটেনি দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ১০:১০ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৯

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ট্রলি ধরলেই এতদিন রোগী ও তাদের স্বজনদের গুনতে হতো টাকা। এই টাকা আদায়ে হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীরা ছিলেন বেপরোয়া। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের ওপর চড়াও হতেন তারা।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটা বদলে গেছে। চাইলেই যে কেউ শর্তসাপেক্ষে নিয়ে যেতে পারছেন ট্রলি। তবে এ নিয়ে এখনো রয়ে গেছে চরম দুর্ভোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে নিয়ে যেতে হয় ট্রলি। খাতায় নাম তোলার পর ১০০ টাকা জমা দিলেই মিলছে ট্রলি। ওয়ার্ডে রোগী আনা-নেয়ার পর ট্রলি রেখে যেতে হয় এখানে। ট্রলিসেবা আগের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা। তবে ট্রলি ফিরিয়ে দিতে আসা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের।

dinajpur-

রাজশাহীর বাঘা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন মিজানুর রহমান। নতুন নিয়মে ট্রলিসেবায় তিনি সন্তুষ্ট। মিজানুর রহমান বলেন, আগে ট্রলি ধরলেই ৫০-১০০ টাকা দিতে হতো। অনেক হয়রানির শিকার হতে হতো। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। তবে ট্রলি ফিরিয়ে দেয়া নিয়ে এখনো ভোগান্তি রয়ে গেছে।

নওগাঁর মহাদেবপুর থেকে হাসপাতালে আসা আবদুল মালেক বলেন, রোগীর সঙ্গে কেবল আমিই এসেছি। ১০০ টাকা জমা দিয়ে ট্রলি নিয়ে যাওয়ার পর রোগী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ফলে ট্রলি ফিরিয়ে দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ নিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আমাকে বকাঝকা করেছেন। আমার মতো অনেকেই এই ভোগান্তিতে পড়ছেন।

কেবল ভর্তিকৃত রোগীদের ওয়ার্ডে নেয়ার বেলায় নয়, হাসপাতাল ছাড়া রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিজ্ঞতা প্রায় একই রকম। সোহেল রানা নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, জরুরি বিভাগের সামনে এই ট্রলিগুলো পড়ে থাকে। ওয়ার্ডে নেই। রোগী বের করার জন্য এখানে এসে ট্রলি নিয়ে যেতে হয়।

জরুরি বিভাগসহ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ট্রলি নেয়া এবং ফিরিয়ে দিয়ে জামানত তোলার ব্যবস্থা থাকলে এই সেবা পূর্ণতা পেতো। তা না হলে ট্রলি সিন্ডিকেট থেকেই যাবে বলে জানান সোহেল রানা।

dinajpur-

এদিকে, হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীদের অনেকেই ট্রলি চালিয়ে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা আয় করতেন। সেই সঙ্গে হাসপাতালে থেকে পেতেন ১২০ টাকা মজুরি। ফলে বিশেষ এই ট্রলিসেবায় খুশি নন অস্থায়ী কর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন অস্থায়ী কর্মী জানান, তারা যা মজুরি পান তা দিয়ে সংসার চলে না। ট্রলিসেবা দিয়ে তারা বেশি আয় করতেন। এখন সেই পথ বন্ধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক পাশে রাখা হয়েছে ট্রলি। সেখান থেকে অনবরত মাইকে এই সেবার ঘোষণা দিচ্ছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। ঘোষণা শুনে ট্রলিসেবা নিচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

দায়িত্বরত আনসার-ভিডিপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ১৯ অক্টোবর থেকে হাসপাতালে বিশেষ এই ট্রলিসেবা চালু হয়েছে। ১৫টি ট্রলি এই সেবা দিচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী সেবা নিচ্ছেন। দিনে দিনে সেবার পরিধি বাড়ছে।

dinajpur-

তিনি আরও বলেন, ১০০ টাকা জমা দিয়ে নাম নথিভুক্তির পর দেয়া হয় ট্রলি। এক ঘণ্টার মধ্যে ট্রলি ফিরিয়ে দিলে জামানতের ১০০ টাকা ফেরত দেয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গড়ে প্রতিদিন এক হাজার ৮০০ রোগী ভর্তি হন হাসপাতালে। বেরিয়ে যাচ্ছেন সহস্রাধিক রোগী। এদের সেবায় ১৫ ট্রলি পর্যাপ্ত নয়। ফলে বাধ্য হয়ে অস্থায়ী কর্মীদের ট্রলিতে ভরসা রাখতে হয় রোগীদের।

বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, আপাতত ১৫টি ট্রলি দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরাও রয়েছেন। চাইলেই ইচ্ছামতো ট্রলিসেবা নিতে পারছেন রোগীরা।

বিশেষ এই সেবার পরিধি বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে আরও ১০টি ট্রলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এগুলো যুক্ত হলে এই সেবায় গতি আসবে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/জেআইএম