ইরান সরকার পতনের ঝুঁকিতে নেই: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬
বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি সম্বলিত পোস্টার ধরে রেখেছেন কয়েকজন/ ছবি: এএফপি

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বোমা হামলার পরও ইরান সরকার পতনের ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এমনকি, একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একই তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন তিনটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর একজন বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘একই ধরনের বিশ্লেষণ’ উঠে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে- ইরানের সরকার পতনের কোনো ঝুঁকিতে নেই ও দেশটির জনসাধারণের ওপর এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি না থাকায় তিনটি সূত্রই নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেন। তাদের একজন জানান, সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি গত কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে।

এদিকে, তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০০৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানটি তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করতে পারেন।

তবে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব যদি দৃঢ়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তাহলে যুদ্ধের গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে এখনো ঐক্য বজায় রয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও নিজেদের মধ্যে আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে এই যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তবে সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতা যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।

মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তর এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আবার হোয়াইট হাউজও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব সঙ্গে সঙ্গে দেয়নি।

যুদ্ধের লক্ষ্য পরিবর্তন

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অবস্থান।

ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছে।

মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ইরানের জনগণকে ‘নিজেদের সরকার দখল করে নিতে’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরে তার শীর্ষ সহযোগীরা দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা এই অভিযানের লক্ষ্য নয়।

এই হামলায় খামেনি ছাড়াও আরও কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) উচ্চপদস্থ অনেক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি একটি শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী, যা ইরানের অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ও খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতা নেওয়া অন্তর্বর্তী নেতারা এখনো দেশটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।

ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস চলতি সপ্তাহের শুরুতে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এদিকে, আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল চায় না যে আগের সরকারের কোনো অংশই টিকে থাকুক। তবে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অভিযান কীভাবে ইরানের সরকারকে উৎখাত করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্রটি বলেছে, এর জন্য সম্ভবত স্থল অভিযান দরকার হবে। এতে ইরানের ভেতরে মানুষ নিরাপদে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে পারবে।

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।