হাউমাউ করে কাঁদছেন শতবর্ষী বৃদ্ধা মা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

অসহায় রাবেয়া আক্তার। বয়স শত বছর। এক মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে অনেক আগেই স্বামী সব্বত আলী মারা গেছেন। প্রায় ৩০ বছর আগে দুই ছেলে আজিজ ও মজিদকেও হারিয়েছেন রাবেয়া।

সহায়-সম্বল বলতে স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেতে একটি কাঁচা ঘর। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ায় কাজ করতে পারেন না তিনি। বাধ্য হয়েই মেয়ের আশ্রয়ে দিন কেটে যাচ্ছিল তার। এটি যেন সহ্য হচ্ছিল না দুর্বৃত্তদের।

রোববার রাতে অসহায় এই বৃদ্ধার ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে হাউমাউ করে কাঁদছেন শতবর্ষী রাবেয়া। তার কান্নায় আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বুকফাটা আর্তনাদে চোখের জল ঝরছে আগুনে পোড়া রাবেয়ার ঘর দেখতে আসা প্রতিবেশীদের।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত সব্বত আলীর স্ত্রী রাবেয়া আক্তার বলেন, স্বামী ও দুই ছেলেকে হারিয়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরে দীর্ঘদিন ধরেই বসবাস করে আসছি।

প্রতিদিনের মতো এই ঘরে রোববার রাতে ঘুমাতে যাই। মধ্যরাতে আগুনের শিখায় ঘুম ভাঙে। জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে বাইরে আসি। আমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে খবর দেয়। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ঘরটি আগুনে পুড়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাবেয়া বলেন, ইতোমধ্যে আমার পরিবার-পরিজন সবাই বিদায় নিয়েছেন। বর্তমানে শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে এখন ঘোর অন্ধকার দেখছি। জীবনের শেষ সময়টুকু খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হবে। এমন ভাবনায় দু’চোখ অন্ধকার হয়ে আসছে আমার।

রাবেয়া আক্তারের মেয়ে মাজেদা খাতুন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের এই শেষ আশ্রয় ভিটের জায়গা-জমি নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে মতবিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরেই হয়তো তার মায়ের ঘরে কেউ আগুন লাগিয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল বলেন, খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই মাটির ঘরটি আগুনে পুড়ে যায়। তবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, এ ঘটনায় যদি কেউ জড়িত থাকে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিহাব খান/এএম/এমএস