আমনের বাম্পার ফলনে কৃষক বেশ খুশি
শরীয়তপুরে এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলনের পাশাপাশি সরকার আমন ধান ক্রয় করবে শুনে কৃষকদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তদারকি ও পরামর্শে এ বছর জেলার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয় বলে জানা গেছে।
অন্যান্য ঊচ্চ ফলনশীল ধানের চেয়ে বাজারমূল্য একটু বেশি হওয়ায় কৃষকরা বেশ খুশি। কৃষি বিভাগ আশা করছে আবহাওয়া আমনের অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বোনা আমন ৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর, রোপা আমন ৮ হাজার ৮০ হেক্টর, ৩০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ৩ হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে উফশীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৩ হেক্টরে।
আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪১ হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ধারণা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জন হতে পারে ৬২ হাজার ৫৩৮ মেট্রিক টন। অর্জিত ধানে ৪১ হাজার ২৭৫ মেট্রিক টন চাল হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
শরীতপুর সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ গ্রামের কৃষক পাবেলুর রহমান সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বোনা আমনের চাষ ভালো হয়েছে। আশা করছি এবার ধান বিক্রি করে কৃষি ঋণ পরিশোধ করতে পারবো।

জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, গত বছর পোকার আক্রমণে আমার দুটি জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার কৃষি অফিসের স্যারেরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম তাহসিনুল হক জানান, এই প্রথম বাংলাদেশ সরকার আমন ধান ক্রয় করছেন। এ বছর ৬টি উপজেলা থেকে ১ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন আমন ধান ক্রয় করা হবে। যার প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. অমীর হামজা বলেন, শরীয়তপুরের কিছু কিছু নিন্মাঞ্চল আমন আবাদের জন্য বেশ উপযোগী। তাই আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উন্নত জাতের বোনা আমন আবাদে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতাসহ উদ্বুদ্ধকরণের কাজ নিয়মিত করেছি এবং চালিয়ে যাচ্ছি। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হওয়ায় কৃষকরাও বেশ আগ্রহের সঙ্গে এখন আমন আবাদ করছেন। কৃষকদের লোকশানের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার এবার আমন ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে।
আমন কেটে কৃষক আবার একই জমিতে বিভিন্ন মসলা ফসলসহ মাটির উপযোগিতা ও গুণাগুণ অনুযায়ী অন্যান্য ফসল আবাদ করতে পারছেন। ফলে অনেক দুই ফসলি জমিই এখন তিন ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
ছগির হোসেন/এমএএস/জেআইএম