শীতলক্ষ্যা থেকে সেই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার


প্রকাশিত: ১০:৪৭ এএম, ০২ অক্টোবর ২০১৫

ছেলের জন্মদিন পালন না করায় বাবার সঙ্গে অভিমান করে কাঁচপুর ব্রিজ থেকে লাফ দেয়া সেই অভিমানী গৃহবধূ সাদিয়া মেহজাবিন লুবনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১ টায় শীতলক্ষ্যা নদীর সিদ্ধিরগঞ্জের চর সুমিলপাড়া সাদুরঘাট এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল ও পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা গেছে, ঢাকার কদমতলী থানার মাতুইয়াল এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির ভাড়াটিয়া মোশাররফ হোসেনের মেয়ে সাদিয়া মেহজাবিন লুবনার সোহান ওরফে শাহীন নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার শাহীনের জন্মদিন ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলের জন্মদিন পালন না করায় লুবনা তার বাবার সঙ্গে অভিমান করে বাসা থেকে বের হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। বাসা থেকে বের হয়ে লুবনা কাঁচপুর সেতু এলাকায় পৌঁছে বাবার সঙ্গে মোবাইলে শেষ কথা বলে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে জানায়, লুবনা মোবাইল ফোনে তার বাবাকে বলে আমি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আমার এক মাত্র ছেলে সোহানকে তোমরা দেখে রেখো। এ কথা বলেই লুবনা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরপর থেকে লুবনার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। পরে লুবনার বাবা মোশাররফ হোসেন কাঁচপুরে ছুটে এসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পুলিশ এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকার সদর দফতরের ডুবুরী দলকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের স্টেশন অফিসার দেবাশিষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের ডুবুরী দল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কাঁচপুরে এসে শীতলক্ষ্যা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু ৭টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ডুবুরী দল সেদিনের মতো তল্লাশি স্থগিত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে স্টেশন অফিসার রাফিউজ্জামানের নেতৃত্বে ডুবুরী দল আবারও শীতলক্ষ্যা নদীতে তল্লাশি করতে থাকে। পরে দুপুর ১ টায় লুবনার মরদেহ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীর চুর সুমিলপাড়া সাদুরঘাট এলাকায়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সার্বিক) সরাফত উল্লা জাগো নিউজকে জানায়, দুপুর ১ টায় ডুবুরী দল তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। লুবনা অনেক রাগী এবং অভিমানী ছিল বলে পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন ওসি।

হোসেন চিশতী সিপলু/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।