কুলাউড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, সড়কে সহস্রাধিক যানবাহন আটকা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচালে ফের ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিগুলো ফেঞ্চুগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাজার আঞ্চলিক সড়কের ওপরে পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের দুই পাশে ট্রেনের বগি অপসারণের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক যানবাহন। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার টার দিকে কুলাউড়ার বরমচাল রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে আউটার সিগন্যাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে কুলাউড়ায় চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলো।
গত ২৩ জুন কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় দুর্ঘটনা কবলিত হয় ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চারজন। আহত হন দুই শতাধিক যাত্রী। ১৯ জুলাই সিলেট থেকে ছেড়ে আসা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনে প্রবেশ করার সময় লাইনচ্যুত হয়। ওই ঘটনার পরদিন ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রেন। সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেসের একটি বগি ২০ জুলাই সকাল ৯টায় কুলাউড়া জংশন রেল স্টেশনে ঢোকার সময় লাইনচ্যুত হয়। সর্বশেষ আজ রোববার সকালে মালবাহী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেটগামী মালবাহী ট্রেনটি বরমচাল স্টেশনে প্রবেশের আগে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের মাঝখানের ওই বগিসহ পেছনের প্রায় ১০/১২টি বগি টেনেহিঁচড়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একপর্যায়ে ট্রেনচালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এ সময় রেল লাইনের ২৫০ থেকে ৩০০টি স্লিপার এবং অর্ধসহস্রাধিক ক্লিপ ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এই রেল লাইনে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আগে সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে তারা জানান।
কুলাউড়া রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) জুলহাস মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লাইনচ্যুত বগিটির চাকা ও টুলে সমস্যা ছিল। আমি এর আগে এই বগিটি পরিবর্তন করার জন্য রেলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলাম । কিন্তু পরিবর্তন করা হয়নি। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চলছে।
রিপন দে/আরএআর/পিআর