মাস না যেতেই উঠে যাচ্ছে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:৪২ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ভেদরগঞ্জ-কাশিমপুর সড়কের নির্মাণ কাজ গত ২ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এক মাস না যেতেই উঠে যাচ্ছে সড়কটির কার্পেটিং।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকেই সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হচ্ছিল। তড়িঘড়ি করে আবারও সড়কের মেরামত কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার।

জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ভেদরগঞ্জ-কাশিমপুর এলাকায় ৫ হাজার ৪৯০ মিটার পাকা সড়ক মেরামত কাজের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৪ টাকা ব্যয়ে এ কাজটি পায় শরীয়তপুর সদরের শেখ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের জুন কাজ শুরু হয়। গত ২ ডিসেম্বর ঠিকাদার মানিক শেখ নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করেন।

soriatpur

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ২৫ মিলিমিটার হওয়ার কথা। সেখানে তা ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার হয়েছে। বিটুমিনও কম দেয়া হয়েছে। সড়কটি দিয়ে কোনো গাড়ি চললেই পাথরগুলো উঠে যাচ্ছে। একপর্যায়ে এলাকার লোকজন সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টেনে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখান এই প্রতিবেদককে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এ অবস্থার তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জল হোসেন, মোবারক খাঁ ও শিক্ষক মেহাম্মদ আলী বলেন, ঠিকাদার ভালোভাবে কাজ করেনি। কাজের সময় কেউ বাধা দেয়নি, নিজের ইচ্ছেমত কাজ করে গেছে। এক মাস না হতেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা সড়কের মেরামত চাই না। নতুন করে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হোক।

soriatpur-1

অটোরিকশা চালক মো. ফরহাদ বলেন, রাস্তায় বিটুমিনসহ সবকিছু কম দেয়া হয়েছে। তাই সড়কটি দিয়ে কোনো গাড়ি চললেই পাথরগুলো উঠে যাচ্ছে।

শেখ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার মানিক শেখ বলেন, রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তা এ রকম হতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান ফরাজি বলেন, দু-একদিনের মধ্যে রাস্তা ঠিক হয়ে যাবে। দ্রুত রাস্তার কাজ চলছে।

ছগির হোসেন/আএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।